মৃত ভাইয়ের জমি দখলে নিতে ভাবির চুল কেটে নির্যাতন
যশোরে এক গৃহবধূকে গাছে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই বিরোধ নিয়ে শনিবার বিকেলে গ্রামে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে নির্যাতিতার ছেলেসহ তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বজনেরা জানিয়েছেন, ৯ মাস আগে নির্যাতিত ওই গৃহবধূর প্রথম স্বামী রেজাউল মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তিনি তার স্ত্রীকে ৪ শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির ওপর লোভ ছিল রেজাউলের চাচতো ভাই আজগর হোসেন ও রিপন হোসেনের। এ কারণে ওই জমি থেকে বিতাড়িত করতে ছয়মাস আগে তার নামে পরকীয়ার অপবাদ তোলেন তারা।
পরে অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সালিশে প্রতিবেশী নওয়াব আলীর সঙ্গে তার বিয়েও দেন স্থানীয় মাতবররা। নওয়াব আলীর সাথে বিয়ে হলেও প্রথম স্বামীর দেওয়া জমিতে বসবাস করে আসছিলেন ওই নারী।
সম্প্রতি আজগর ও রিপন তাদের ভাই রেজাউলের জমি ফেরত নেওয়ার জন্য চাপ দেন। এনিয়ে শনিবার দুপুরে সালিশ বৈঠক বসার সিদ্ধান্ত হলে দেবর আজগর ও রিপনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন তাকে মারতে আসেন।
এক পর্যায়ে ওই গ্রামের মেম্বার পদপ্রার্থী শিমুল তাকে গাছে বাঁধতে নির্দেশ দেন। পরে গাছে বেঁধে মারপিট করে চুল কেটে মুখে চুনকালি মাখিয়ে দেয় বলে অভিযোগ নির্যাতিত ওই নারীর।
তাকে বাঁচাতে দ্বিতীয় স্বামী নওয়াব আলীর ছেলে রয়েল এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করেন রিপন ও আজগররা। এক পর্যায়ে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে আজগর ও রিপনও আহত হন। পরে দু’পরিবারের স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আহম্মেদ তারেক শামস্ জানিয়েছেন, আহতদের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদেরকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। চাঁচড়া ফাঁড়ির এএসআই সোহেল জানান, মালঞ্চী গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এক নারীর চুল কেটে মারপিট করা হয়েছে। তাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, মাঞ্চলী গ্রামে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
মিলন রহমান/এফএ/এমএস