নিঝুম দ্বীপের ভাঙা সড়ক-সেতুতে দুর্ভোগ চরমে
ভেঙে গেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের প্রধান সড়ক। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানে যেতে ছোয়াখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ধসে পড়েছে। সেতু থেকে নামার বাজার পর্যন্ত উদ্যানে প্রবেশের প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থা। বেশ কয়েকটি জায়গায় আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ থেকে মাটি সরে সড়ক ভেঙে খালে পড়ে গেছে।
এদিকে পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলের জন্য স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে ভেঙেপড়া সেতুর পাশে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়েছে কাঠের সাঁকো। ওই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। ভারী মালামালও সাঁকো দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা এ সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করছেন।

মো. সবুজ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জুলাই-আগস্টে বর্ষার প্রবল জোয়ারে নিচ থেকে মাটি সরে সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর কিছু দিন নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার হলেও যানবাহন ও মালামাল পারাপারে অসুবিধা হতো। নিঝুম দ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন সেতুর পাশে কাঠের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছেন। এ সাঁকো দিয়ে মানুষ চলাচল করলেও ভারী যানবাহন পারাপারে সমস্যা হচ্ছে।
নিঝুম দ্বীপ ঘুরে আসা পর্যটক মো. শাহ আলম জানান, ভাঙা সেতু ও বেহাল সড়কের কারণে পর্যটকদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নিঝুম দ্বীপের নামার বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটক এ দ্বীপে ঘুরতে আসেন। শীতের সময় চলে এসেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় পর্যটকের আগমন অন্যবারের তুলনায় অনেক কম।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন বলেন, উদ্যানের প্রবেশ মুখের সেতু ও সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউসকে জানিয়েছি। উনি এ ব্যাপারে আন্তরিক এবং খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) তপন চন্দ্র দেবনাথ জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেতু ও সড়কের কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে।
ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এএসএম