শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র জমা দেননি আ’লীগ প্রার্থী
পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৭৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এদিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সুশীল চন্দ্র দাস মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
সুশীল চন্দ্র দাস জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয়ভাবে দলীয় সভার মাধ্যমে আমাকে প্রার্থী মনোনীত করা হয়। সে অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে দলীয় ফরম পূরণ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। আবার নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে কেন্দ্রে জমা দিতে হয়। কিন্তু আমি যেকোনো কারণে কেন্দ্রের কাজটি করতে পারিনি। এরপরও দেখা যায় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমার নাম চূড়ান্ত করা হয়।
মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচন না করার বিষয়ে তিনি তিনটি কারণ উল্লেখ করেন। এগুলো হলো- কেন্দ্রে গিয়ে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া, পারিবারিক চাপ ও শারীরিক অসুস্থতা।
তবে আক্ষেপ করে সুশীল চন্দ্র দাস বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এখন প্রকৃত ও ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোথাও ভালো নেই। রাজনীতির মাঠে-ময়দানে, রাজপথে নেই। রাজনীতি চলে গেছে এসিরুমের মধ্যে।
তিনি আরও বলেন, সব কথা এবং সব দুঃখের কথা প্রকাশ করা যায় না। আমাদের মতো মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন নেই। নৌকার প্রার্থী হয়ে হেরে গেলেও কষ্টের সীমা থাকে না। বুকের মধ্যে অনেক কষ্ট লুকিয়ে আছে। সবকিছু বলতে পারছি না। ‘প্রকাশ করলে চাকরি থাকবে না।’ তবে নির্বাচনের পরে প্রয়েজনবোধে কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে গিয়ে লিখতভাবে জানাবো।
এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী জমার শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। এটা তাদের দলীয় বিষয়। তবে এ ইউনিয়নে মোট সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ৯ ডিসেম্বর। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৭৬ জন প্রার্থী, ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে ৩১৫ জন প্রার্থী ও সংরক্ষিত মহিলা পদে ৯৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের জেলা আওয়ামী লীগকে কেউ কিছু জানায়নি। বিষয়টি আমাদের জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারবো।
এন কে বি নয়ন/এসজে/এএসএম