বগুড়ায় ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা
বগুড়ার শেরপুরে সুদে টাকা লাগাতে নিষেধ করায় ধারালো বটি দিয়ে ঘুমন্ত স্বামীর গলা কেটে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী লাকী আক্তারের বিরুদ্ধে। পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তজমল হোসেন (৩৫) নামে ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
জানা গেছে, শ্বাসনালী অক্ষত থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় এখনো শঙ্কামুক্ত নন তিনি। আহত তজমলকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর বিলনোথার গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে এই ঘটনায় শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ঝাঁজর বিলনোথার গ্রামের তজমল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় লাকী আক্তারের। ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। সংসারে তাদের কোনো সন্তান নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন তজমল। সংসারের খরচ বাদে বাড়তি কিছু টাকা সঞ্চয়ও করেন তারা। কিন্তু সঞ্চয়ের এসব টাকা স্বামীকে না জানিয়ে গোপনে সুদে লাগান লাকী আক্তার। এভাবে সামান্য সময়ের মধ্যেই লক্ষাধিক টাকার মালিক বনে যান তিনি। একপর্যায়ে বিষয়টি স্বামী জানতে পেরে সুদে টাকা লাগাতে নিষেধ করেন তাকে।
এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে রোববার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জেরে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে ধারালো বটি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা তজমলের গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান লাকী। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তজমল হোসেন বলেন, সংসারে আমার উপার্জিত টাকার হিসাব চাওয়ায় ও সুদের ওপর টাকা লাগাতে নিষেধ করায় লাকীর সাথে ঝগড়া হয়। এছাড়া তেমন কিছুই হয়নি। অথচ এই সামান্য বিষয় নিয়ে আমাকে ঘুমের মধ্যে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে যা কল্পনাও করতে পারছি না। তাই থানা-পুলিশের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে অভিযোগ দিয়েছি।
তবে অভিযুক্ত স্ত্রী লাকী আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ঘুমন্ত স্বামীর গলায় ছুরি চালানোর মতো কোনো ঘটনা তিনি ঘটাননি। ওইদিন তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ধারালো কোনো কিছুর দ্বারা তার স্বামীর গলা কেটে রক্ত বের হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানতে চাইলে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ এ প্রসঙ্গে বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। সেইসঙ্গে আহতের খোঁজ-খবর নিই। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে স্ত্রী দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআরআর/এএসএম