ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পরিযায়ী পাখির সঙ্গে এ যেন এক আত্মার বন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

শীতের আগমনিবার্তা নিয়ে পরিযায়ী পাখিদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার থামারকান্দির ঝাঁঝর ও গরফার বিল। এসব পাখি দেখতে প্রতিদিনই জেলা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। তবে কেউ পাখি শিকার করতে আসলে স্থানীয়রাই তাদের বাধা দেন।

বিলের পানিতে ভাসছে সাদা চাঁদমালা ফুল। এই ফুলের ফাঁকে ফাঁকে ভাসছে পরিযায়ী পাখি পাতিসরালি। মাঝেমধ্যে পাখির ঝাঁক ডানা মেলে আকাশে উড়াল দিচ্ছে।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্ব দিকে খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁঝর ও গরফার বিলে দেখা মিলবে এমন দৃশ্যের। এই বিলে বিভিন্ন ধরনের পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে রয়েছে হাঁস, বালিহাঁস, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বিভিন্ন ধরনের বক ও শালিক।

Bird-(3).jpg

ওই এলাকার স্থানীয় মামুন জানান, বিলের পাশে তাদের চাষের জমি। জমি পরিচর্যার জন্য তাদের নিয়মিত আসতে হয়। এ সময় বিলের পাখির ডাকাডাকিতে মন ভরে যায়।

যারা বিলের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন, তারা একটু সময়ের জন্য হলেও পাখির ডাক শুনতে বিলের সামনে দাঁড়িয়ে যান। এ যেন এক আত্মার বন্ধন। তবে মাঝেমধ্যে পাখি শিকার করতে আসা অপরিচিত ব্যক্তিদের বিলের আশপাশে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দেখলে বাধা দেন।

Bird-(3).jpg

পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় বলেন, আমাদের দেশেরই পাখি পাতিসরালি। দুই বছর ধরে এই পাখি প্রজননের সময় এ বিলে এসে থাকে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাখিগুলোর প্রজননের সময়। স্ত্রী পাখি একসঙ্গে সাত থেকে ১২টি ডিম দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ২২ থেকে ২৪ দিন সময় লাগে। এগুলোর প্রধান খাবার পানিতে থাকা জলজ উদ্ভিদ, নতুন কুড়ি, শস্যদানা, ছোট মাছ, ব্যাং, শামুক ও কেঁচো ইত্যাদি।

ভাস্কার এগ্রো পার্কের হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছরই শীতকালে বিভিন্ন ধরনের শত শত পাখি আসে এই বিলে। এলাকার মানুষ পাখিদের মারতে দেয় না। এমনকি ঢিলও ছুড়তে দেয় না।

বগুড়া বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ফজলে বারী রতন জানান, পরিযায়ী পাখিদের যেন কোনো সমস্যা না করে সেজন্য বিলের আশপাশের মানুষদের সচেতন করা হয়েছে। এলাকার মানুষই এখন পাখিদের সংরক্ষণ করে।

এফএ/এমএস