অপেশাদার লেখকদের কারণে গণহত্যার স্বীকৃতি মেলেনি: ড. দিব্যদ্যুতি
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে চার হাজারের বেশি বই প্রকাশিত হলেও অপেশাদার ও অপ্রশিক্ষিত লেখকের কারণে সেসব ইতিহাস আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। তাই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে গবেষক তৈরি করছে।
কথাগুলো বলেছেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দিব্যদ্যুতি সরকার।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনক্রমে দেশের একমাত্র নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ চালু করা হয়েছে। আমরাই একমাত্র প্রশিক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক গবেষক তৈরি করছি।
ড. দিব্যদ্যুতি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। অতীতে লাখ লাখ পাতা ইতিহাস লেখা হয়েছে। কিন্তু তা জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের সজ্ঞা অনুযায়ী রচিত হয়নি। চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে গণহত্যার ইতিহাস রচনা করতে হয়। আগে তা করা হয়নি। যা করা হয়েছে তাও বাংলায় করা। ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর গুরুত্ব অনুধাবন হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যে গণহত্যা হয়েছে তা স্বীকৃতির লক্ষ্যে গবেষকদের তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১২ শিক্ষার্থীকে গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও তার ইতিহাস রচনার গবেষক তৈরি হবে। যা দিয়ে তারাও জীবিকা নির্বাহ করবে।
চেয়ারম্যান দিব্যদ্যুতি বলেন, গণহত্যার শ্রেণিকরণ করা হচ্ছে। সারাদেশের সব গণহত্যা নিয়ে আলাদা ইতিহাস রচনা করা হবে। এজন্য নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরবে আমাদের শিক্ষার্থীরা।
ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এএসএম