ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঘর পাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী | প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০২১

স্ত্রী, চার ছেলে এক মেয়ে নিয়ে রিকশা চালিয়ে সংসারের বোঝা টানছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক (৭০)। ১০ বছর আগে দুর্ঘটনায় কোমরের হাড় ভেঙে অচল হয়ে পড়েন তিনি।

এরমধ্যে তিন ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার পাতেন। নিজের সংসার আর মেয়ের বিয়ে ও ছোট ছেলের পড়ালেখার খরচ জোগাতেই বিপাকে পড়েন এ বীর যোদ্ধা। থাকার ঘর নির্মাণের চিন্তাও করতে পারেন না তিনি।

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এ বীর সৈনিককে অবাক করে দিয়ে ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের অধীনে ‘বীর নিবাসের’ ব্যবস্থা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরোদমে এগিয়ে চলছে সে নিবাসের নির্মাণকাজ।

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের চরপার্বতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন বাড়ি দেখতে গেলে কথা হয় তার সঙ্গে। খুশিতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না বৃদ্ধ সামছুল হক। আবেগাপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দেখা মতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কল্যাণমূলক যত কার্যক্রম হয়েছে সবই তার (প্রধানমন্ত্রী) হাত ধরেই হয়েছে।’

bare

এ বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘বীর নিবাস নির্মাণে ঠিকাদারের পাশাপাশি নিজেও বিভিন্নভাবে সহায়তা করছি। নিজের স্বপ্নের এ ভবনের কাজটি যেন নিখুঁত হয় সেজন্য সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখছি।’

সামছুল হক বলেন, ‘একমাত্র মেয়ে আয়েশা খাতুনকে (২১) এ বছরই বিয়ে দিয়েছি। ছোট ছেলে মো. কোরবান আলী অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করে। সরকারের দেওয়া মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দিয়েই সংসার চলে। এ টাকা না হলে পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হতো।’

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে আমি সিলেটের দোয়ারা বাজার এলাকায় বসবাস করতাম। সেখানেই কমান্ডার লে. মাহবুবের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে পরিবার নিয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতী গ্রামে নিজ পৈতৃক বাড়িতে চলে আসি। সেই থেকে এখানেই বসবাস করছি এবং রিকশা চালিয়ে জীবন নির্বাহ শুরু করি।’

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোম্পানীগঞ্জের ডেপুটি কমান্ডার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক একজন অসচ্ছল, নিরীহ, ও অসহায় ব্যক্তি। তাকে ‘বীর নিবাস’ পাওয়ার জন্য আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে সুপারিশ করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এমএস