ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৪১ বছর আগের জালিয়াতির সত্যতা পেলো দুদক

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৬:৫০ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

যশোরের শার্শার ঐতিহ্যবাহী কাচারি বাড়ির সরকারি জমি ৪১ বছর আগে গোপনে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে নেওয়ায় অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সরেজমিন তদন্ত করে জালিয়াতির সত্যতা পায় দুদকের সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের একটি টিম। এ বিষয়ে তারা প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, শার্শা মৌজার সাবেক ১২৫৫ দাগের ৩৫ শতক সরকারি জমি ফজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তি প্রথমে একসনা বন্দোবস্ত নেন। এরমধ্যে ৩২ দশমিক ৬৩ শতক (প্রায় এক বিঘা) জমি ১৯৮০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিজ নামে রেকর্ড করে নেন। প্রথমদিকে এটি গোপন থাকলেও তার মৃত্যুর পর ছেলে কবির হোসেন, জসিম উদ্দিন, মনির হোসেন ও ইমাম হোসেন সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করেন। পরে জানাজানি হলে সরকারি ওই জমি কিভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো তা নিয়ে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর এক পত্রে উল্লেখ করেন, কালেক্টরেট যশোরের নামে কাচারি বাড়ির জমিটি মূলত বাস্তু শ্রেণির জমি। তবে জমিটি ‘ধানি’ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ফজলুর রহমান মারা যাওয়ার পর তার সন্তানদের নামে জমিটি রেকর্ড করা হয়। বিষয়টি তিনি চিঠি দিয়ে জেলা প্রশাসককে জানান। এরপর যশোর জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে এলএসটি মামলা করার জন্য সরকারের জিপিকে চিঠি দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের চিঠি পেয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে আটজনের নামে মামলা করা হয় বলে জানিয়েছেন যশোর আদালতের জিপি কাজী বাহাউদ্দীন ইকবাল।

মামলার আসামিরা হলেন-শার্শার মোড়লপাড়ার ফজলুর রহমানের পাঁচ সন্তান জসিম উদ্দিন, করিম হোসেন, মনির হোসেন, ইমাম হোসেন ও শাহিনা খাতুন; নুরুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা খাতুন, ফজলুর রহমানের স্ত্রী রেহেনা খাতুন ও মমতাজ বেগম। বিচারক আসামিদের প্রতি সমন জারি করে আগামী বছরের ১১ জানুয়ারি মামলার দিন ধার্য করেন।

এরইমধ্যে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পেয়ে দুদক যশোর কার্যালয়ের তদন্ত টিম বুধবার ঘটনাস্থলে যায়।

তদন্ত টিমের নেতৃত্বে থাকা দুদক সমন্বিত যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই জমি ফিরে পেতে এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে মামলা করা হয়েছে। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারি জমি যাতে উদ্ধার হয় সে বিষয়ে তারাও তৎপর রয়েছেন।’

মিলন রহমান/এসআর/এএসএম