ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সন্তানকে বাঁচাতে কাঁদছেন বাবা-মা

বেনাপোল (যশোর) | প্রকাশিত: ১২:২০ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

দুইটি নষ্ট কিডনি নিয়ে দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে যশোরের শার্শা উপজেলার স্কুলছাত্রী রাফিজা খাতুন। কিন্তু অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে দিশেহারা রাফিজার দরিদ্র বাবা-মা। এ অবস্থায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তারা।

জানা যায়, শার্শা উপজেলার ধলদাহ গ্রামের গরীব কৃষক আব্দুর রহিমের মেয়ে রাফিজা খাতুন। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। ধলদাহ টিআরএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণি ছাত্রী সে। কিন্তু এখন পড়াশোনাও বন্ধ।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় থেমে গেছে এ কিশোরীর প্রাণচাঞ্চল্য। এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা।

একটি কিডনি চেয়ে জীবন বাঁচানোর করুণ আকুতি জানিয়ে রাফিজা খাতুন বলেন, সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো সুস্থ হয়ে আবার পৃথিবীর আলো বাতাস উপভোগ করতে পারবো।

রাফিজার মা বাবা জানান, তারা খুবই গরিব। ৬ মাস আগে মেয়ের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে পরীক্ষা করে জানতে পারেন তার কিডনির সমস্যা হয়েছে। এরপর জানতে পারেন ধীরে ধীরে তার দুটো কিডনিই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে করাতে ইতোমধ্যে অনেক অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। এখন আর চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

তারা আরও জানান, মেয়েকে বাঁচাতে আপাতত একটি কিডনি জরুরিভাবে প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসাই যেখানে থমকে গেছে সেখানে কিডনি স্থাপন অসম্ভব ব্যাপার।

রাফিজার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দিন দিন রাফিজার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। শরীর দিন দিন দুর্বল হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। মেয়েকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তশালী মানুষের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন করেন তিনি।

রাফিজা খাতুনকে যশোরের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আশরাফুজ্জামান রিপন ও কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওবাইদুল কাদীর উজ্জলসহ কয়েকজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করিয়েছে পরিবারটি। তারা জানিয়েছেন, রাফিজাকে বাঁচাতে হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন।

ধলদাহ গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাফিজা একজন মেধাবী ছাত্রী। তার বাবা দিনমজুর। অর্থাভাবে রাফিজার চিকিৎসা থমকে গেছে। মেয়েটির প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন তিনি।

জামাল হোসেন/এফএ/এএসএম