ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সম্পর্ক মামা-ভাগনে হলেও ছাড় নেই ভোটের মাঠে

শ্রীপুর (গাজীপুর) | প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১

জেলার নামে নামকরণ হয়েছে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের। জেলার মধ্যে এ ইউনিয়নের নানা ধরনের ঐতিহ্য আছে। সব ছাপিয়ে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল বেড়েছে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীকে ঘিরে। বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার ভাগিনা আজাহার হোসেন তালুকদার আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

দুই প্রার্থীর বাড়ি পাশাপাশি দুটি গ্রামে। এলাকায় এখন তাদের ঘিরেই চলছে আলোচনা। আত্মীয় স্বজনরাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের প্রার্থীকে জেতাতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের কথা দুজন রক্তের সম্পর্ক হলেও নির্বাচনী মাঠে যেন একে অপরের শত্রু।

শ্রীপুর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু গাজীপুর ইউনিয়নেই প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ। নির্বাচন ঘিরে এখন প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণা চলছে। পোস্টারে ছেয়ে গেছে গ্রামগুলো।

নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে অংশ নিলেও মূল লড়াইয়ে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকের আজাহার তালুকদার (নৌকা), আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আকরাম হোসেন, ঘোড়া প্রতীকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল হক মাদবার।

স্থানীয়রা জানান, এ এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক প্রার্থীদের কদর বেশি। সে হিসেবে গাজীপুর পূর্ব এলাকার প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মাদবর। তবে ভোটারদের মধ্যে ভালো ইমেজের কারণে আকরাম হোসেনও আছেন সমান অবস্থানে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজাহার হোসেন তালুকদার স্থানীয় মোসলেহ উদ্দিন মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বর্তমান সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় গত বছর। আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েই নানা বিতর্ক তৈরি করেন ইউনিয়নজুড়ে। তবে হঠাৎ করেই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। এতে ক্ষোভ তৈরি হয় আওয়ামী লীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।

ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল ও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃনমূলে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় এখনো অনেকটা কোণঠাসা নৌকা প্রার্থী। অনেকে মনে করছেন সুষ্ঠু ভোট হলে মূল লড়াই হবে নৌকা ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজাহার হোসেন তালুকদার বলেন, অনেক বুঝিয়েছি আমার মামাকে। এবার আমাকে ছাড় দেওয়ার জন্য, তিনি ছাড় দেননি। আমরা তার নির্বাচন করে একবার তাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছি। এবার বলেছি দল আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছে তাই সবাই মিলে আমাকে চেয়ারম্যান বানান। তিনি কথা রাখেননি। তাই নির্বাচনী মাঠে মামার বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।

আনারস প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা আকরাম হোসেন বলেন, তিনি গাজীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। সফলতার জন্য এবারও সাধারণ লোকজনের প্রত্যাশা পূরণে প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া গত নির্বাচনে পরজয়ের পরও সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে এবার তিনি বিজয়ী হবেন।

ভাগনের বিষয়ে তিনি বলেন, আজাহার আমার আপন বোনের ছেলে। হঠাৎ করে সে প্রার্থী ঘোষণা দিল, দলও মনোনয়ন দিয়েছে। এভাবে তো আর নির্বাচন করা যায় না। আমি দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। ভোটারদের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা যাকে ভোট দেবে তাতেই জয় পরাজয় নির্ধারিত হবে। অন্তত ভোটের মাঠে মামা-ভাগনে কোনো বিষয় নয়।

এসজে/এএসএম