‘ভিডিও ফাঁসের’ পর নোয়াখালীর সেন্ট্রাল হাসপাতালের এমডি অপসারিত
সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও ইনসেটে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সোহাগ
একটি ভিডিও ফাঁসের জেরে নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টের সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সোহাগকে অপসারণ করা হয়েছে। যে ভিডিওটি ফাঁস হয়েছে, সেটি সোহাগের সঙ্গে ওই হাসপাতালের এক রিসিপশনিস্টের বলে দাবি করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের চেয়ারম্যান নুরুল আলম লিটন জাগো নিউজকে জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সাইফুল ইসলাম সোহাগকে সেন্ট্রাল হাসপাতালের এমডি পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালকদের (মালিক) জরুরি সভায় সোহাগকে অপসারণ করে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুর নবী সুজনকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভিডিও ফাঁস ও এমডিকে অপসারণের খবরে হাসপাতালসহ জেলা শহরে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাইজদী সেন্ট্রাল হাসপাতালে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল। এবার এমডির অনৈতিক ভিডিও ফাঁসের পর ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নারী-পুরুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিদ্যুত কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সোহরাব হোসেন ও সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফ উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কমিটির পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিজ নিয়ে মো. ইব্রাহীম নামে এক ব্যক্তি নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। অপসারিত সাইফুল ইসলাম সোহাগ তার ভাগনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক সেবিকা জানান, এমডি সোহাগ হাসপাতালে তার কক্ষে শোয়ার খাট রেখেছেন। মাস শেষে বেতন নিতে সব সেবিকাকে তার কক্ষে একা যেতে হয়। তার ইচ্ছার বাইরে গেলে এ হাসপাতালে চাকরি করা দায়। তার মামা ইব্রাহীম সব জেনেও না জানার ভান করতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের চেয়ারম্যান পরিচয়দাতা মো. ইব্রাহীম জাগো নিউজকে বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সোহাগকে অসংখ্যবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। হাসপাতালে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/এএসএম