ভোটকেন্দ্রের টয়লেটে মিললো ব্যালট পেপার
টয়লেট থেকে একের পর এক বেরিয়ে আসছে ব্যালট পেপার
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তিনদিন পর কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রের টয়লেট থেকে বেশ কিছু ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে ধামশ্রেণী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের টয়লেট থেকে এসব ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ভদ্রপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের টয়লেটের ভেতর থেকে প্রায় ৬০-৭০টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করেন ওই ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মাহবুবর রহমান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দড়িচর পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের টয়লেট থেকেও ব্যালটের বেশকিছু ছেঁড়া টুকরা উদ্ধার করেন এলাকাবাসী।
এদিকে ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় ওই ইউনিয়নের কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ ভোটাররা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে তারা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, ভোটের দিন নানা অনিয়ম করেন সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। ভোট শেষে ফলাফল দিতেও নানা টালবাহানা করে কালক্ষেপণ করা হয়।
ব্যালট পেপার উদ্ধারকারী পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মাহবুবর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোটের দিন নানা অনিয়ম করেছেন। তিনি আমাদের কোনো অভিযোগ শোনেননি। ভোটের পর থেকে মানুষজন নানা কথা বলাবলি করছিল। আজ সকালে লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের টয়লেটের দরজা খুলে এসব ব্যালট দেখতে পাই।’

ধামশ্রেণী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল হক সরদার বলেন, ‘ভোটগ্রহণে কারচুপি হয়েছে। নৌকা প্রতীককে হারানোর জন্য ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ইচ্ছা করে বিলম্ব করে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। ভোট গণনা শেষে ফলাফলও প্রার্থীদের হাতে দেওয়া হয়েছে। ব্যালটের হিসাব আমার কাছে সঠিক আছে। ওইসব (উদ্ধার করা) ব্যালট কোথা থেকে এলো আমার কিছু জানা নেই।’
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আহসান হাবিবের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।
তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের কোনো বিষয় নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তারা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের বিষয়ে সমাধান দেবেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, নির্বাচনের দিন উপজেলার পাঁচ ইউপির ১১টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতা ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে স্থানীয়রা উদ্ধার করা ব্যালটগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেননি। তারা এ নিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।’
মাসুদ রানা/এসআর/জিকেএস