ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাড়ি নিয়ে বিড়ম্বনায় যশোরের ব্যাংকসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান

জেলা প্রতিনিধি | যশোর | প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২২

গাড়ি রিকুইজিশন নিয়ে বিড়ম্বনায় রয়েছে যশোরের ব্যাংক, বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বিমান বাহিনীর কর্মসূচি উপলক্ষে এক সপ্তাহ রিকুইজিশনের পর আবারও গাড়ি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

তাদের দাবি, টাকা আনা-নেওয়াসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের গাড়িগুলো ব্যবহৃত হয়। এভাবে যদি প্রতিনিয়ত গাড়ি রিকুইজিশন করে নেওয়া হয় তাহলে ব্যাংকের কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

যদিও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন উপলক্ষে প্রচুর গাড়ি প্রয়োজন হওয়ায় এই রিকুইজিশনের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি বিভিন্ন প্রয়োজনে যশোরের বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইউসিবিএল, পূবালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইডিএলসি, আল আরাফা ব্যাংক, ন্যাশাল ইন্সুরেন্স’র মাইক্রোবাস এবং ইসলামী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের পাজেরো গাড়ি রিকুইজিশন দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাড়িগুলোকে হুকুম দখলের মাধ্যমে সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়।

যশোরের একাধিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর যশোরে বিমান বাহিনীর শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ ছিল। এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাংক, বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গাড়িগুলো একসপ্তাহ রিকুইজিশনে ছিল। গাড়িগুলো ব্যাংকে ফিরতে না ফিরতেই ২ জানুয়ারি আবারও রিকুইজিশনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি রিকুইজিশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলো রিকুইজিশনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা। তারা বলছেন, ব্যাংকের গাড়িগুলো অত্যন্ত জরুরি কাজে ব্যবহার হয়। আর প্রত্যেক ব্যাংকেরই অনেকগুলো উপশাখা ও বুথ রয়েছে। নগদ টাকা স্থানান্তর করতে হয় এই গাড়িতে। রিকুইজিশনের ফলে এই স্থানান্তর কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে। টাকা স্থানান্তরে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়। এজন্য যশোরের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছিলো। যেখানে সিদ্ধান্ত হয় জরুরি না হলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি রিকুইজিশন করা হবে না।

কিন্তু বিষয়টি প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমলে নিচ্ছেন না। যে কারণে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে যে সময় ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়, সে সময় গাড়ি রিকুইজিশন দেওয়া হলো। এরপর আবার দু’দিন না যেতেই নতুন চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তবে এই রিকুইজিশন নিয়ে বিড়ম্বনা ও ক্ষোভ থাকলেও প্রশাসনকে জানাননি কোনো কর্মকর্তা। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, এতে প্রশাসনের বিরাগভাজন হওয়ার ও হয়রানির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যশোরের এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) কেএম মামুনুর রশীদ জানান, ৫ জানুয়ারি দু’টি উপজেলায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে অনেক গাড়ি রিকুইজিশন করতে যাচ্ছে। শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠানই নয়, সরকারি প্রয়োজনে আইন মেনেই অনেক সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি নিতে হচ্ছে। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের অসুবিধার কথা প্রশাসনকে জানায়নি। যারা সমস্যার কথা জানান সেগুলো বিবেচনা করা হয়। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি রিকুইজিশনের ব্যাপারে ইতোপূর্বের কোনো সিদ্ধান্তও তার জানা নেই। তবে এটি নিয়ে ব্যাংকগুলো কথা বললে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম