বরগুনায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, জনজীবনে দুর্ভোগ
বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ
বরগুনায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ নেমে এসেছে জনজীবনে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) সকাল থেকে মেঘের দাপটে রোদের দেখা মেলেনি। তবে ঝড়ো বাতাস বা বজ্রপাত হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর থেকে থেমে থেমে জেলায় বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বিপত্তিতে পড়েছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
এদিকে বৃষ্টির কারণে বরগুনায় কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। বৃষ্টি ও তাপমাত্রা কমায় ভোগান্তি বাড়ছে শীতার্ত মানুষের। বিপাকে পড়েছে তরমুজ ও আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষিরা।

পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকার আলু চাষি জব্বার শিকদার বলেন, ‘সকাল থেকে মেঘের কারণে রোদের দেখা মেলেনি। এখন দুপুর থেকে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে জমিতে আলু চাষ করেছি। এভাবে টানা বৃষ্টি হলে আলুর বীজতলায় পানি জমে পচে যেতে পারে।’
আমতলীর টিয়াখালী এলাকার তরমুজ চাষি আজাহার আলী বলেন, ‘দুদিন আগে তরমুজের বীজ বপন করেছি। অবিরাম বৃষ্টি চললে তরমুজ ক্ষেত ডুবে সব বীজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’

তালতলীর ছোট বগী এলাকার আমন ধানের চাষি আফজাল হাওলাদার বলেন, ‘এখনো ক্ষেতের ধান কাটতে পারিনি। এভাবে বৃষ্টি চললে মাটির সঙ্গে ধান মিশে যেতে পারে। পরে খড়কুটোও ঘরে তুলতে পারবো না।’
বরগুনা পৌর শহরের রিকশা চালক ইমরান ও সিরাজুল বলেন, ‘প্রচণ্ড শীত, তার ওপরে আবার বৃষ্টি। ঘর থেকে মানুষ বের হতে পারছেন না। পেটের দায়ে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছি কিন্তু মানুষ না থাকায় আয় নাই।’
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিমাপক মো. মাহতাব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ এখনো রেকর্ড করা হয়নি।’
বরগুনা কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) এস এম বদরুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘একদিনের বৃষ্টিতে তেমন কোনো ক্ষতির আশংকা নেই। তবে ২-৩দিন অবিরাম বৃষ্টি হলে চলতি মৌসুমে রোপণকৃত ফসলের মাঠ ডুবে ক্ষতি হতে পারে।’
আরএইচ/জিকেএস