টিউলিপ দেখতে গাজীপুরে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা, টিকিট ১০০ টাকা
টিউলিপ বাগানে দর্শনার্থী
নেদারল্যান্ডস টিউলিপ ফুল উৎপাদনকারী প্রধান দেশ। টিউলিপকে নিয়েই সেখানে গড়ে উঠেছে শিল্প। তাই দেশটি প্রতি বছর পালন করে টিউলিপ উৎসব। আর তুরস্কের জাতীয় ফুলও এই টিউলিপ।
বাংলাদেশে এ ফুলের চাষ স্বপ্নের মতো ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পূর্ব খণ্ডগ্রামের ফুলচাষি দেলোয়ার হোসেন। প্রথমবার ২০২০ সালে সীমিত পরিসরে তার বাগানে বাজিমাত করেছিলেন ফুল ফুটিয়ে। এবার তৃতীয় বারের মতো তার বাগানে ফুটেছে প্রায় ১৩ রঙের টিউলিপ।

জানুয়ারির মাঝামাঝি তার বাগানে ফুটতে শুরু করে এই টিউলিপ ফুল। এখন সব ফুল ফুটে দৃষ্টি জুড়াচ্ছে দর্শনার্থীদের। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ ও শিশুরাও তার বাগানের দর্শনার্থী। অনেকেই আসছেন দূর-দূরান্ত থেকে। টিউলিপময় এ ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
প্রথমবার দেলোয়ারের বাগানে টিউলিপ ফুল ফোটায় অনেকের মধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। গত বছর দ্বিতীয়বারের মতো তার বাগানে যখন টিউলিপ ফুল ফোটে তখন তা নজর কেড়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বাগান পরিদর্শনে এসেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তৃতীয়বারের মতো টিউলিপ ফুল ফোটায় এবারও দর্শনার্থীদের আগমন বেড়েছে। তবে দর্শনার্থী সীমিত করতে দেলোয়ার হোসেন এবার প্রবেশ ফি নির্ধারণ করেছেন ১০০ টাকা। সঙ্গে আছে নানা ধরনের বিধিনিষেধ।

ছুটির দিন হওয়ায় শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সস্ত্রীক টিউলিপ বাগান দেখতে আসেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. হারুনুর রশিদ বিশ্বাস। তার ভাষ্য, তিনি নিজে একজন কৃষিবিদ হিসেবে টিউলিপের সঙ্গে তার বেশ জানাশোনা রয়েছে। বিদেশের মাটিতে দেখার পর দেশের মাটিতে টিউলিপ বাগানে মনভোলানো এমন দৃশ্যে তিনি পুলকিত। তা সম্ভব হয়েছে দেলোয়ারের মতো উদ্যোক্তাদের কারণেই। এতে কৃষি অর্থনীতি অগ্রগতির একটি সম্ভাবনা জেগেছে।
দর্শনার্থী হিসেবে টিউলিপ বাগানে ঘুরে অনেকটা উচ্ছ্বসিত সরকারি কর্মকর্তা ইসমত আরা। তিনি বলেন, টিউলিপময় ভালোবাসার ছোঁয়া নিতে আমার সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। নানা রঙের ফুলে মুগ্ধ আমার সন্তানও। যে কারও ক্লান্তি দূর করবে এই টিউলিপ।

ফুলচাষি দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, দেশে টিউলিপের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আমার বাগানে পরপর দুবার টিউলিপ ফোটায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সেই চিন্তা থেকে এবার নেদারল্যান্ডস থেকে হলুদ ও লাল, চার ধরনের গোলাপি, কমলা, সাদা, পার্পেল রঙেরসহ ১০ ধরনের ৭০ হাজার টিউলিপের বাল্ব (বীজ) আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৪০ হাজার, রাজশাহীতে এক হাজার ও যশোরের গদখালিতে পাঁচ হাজার বাল্ব দিয়ে বাগান তৈরি করে দেশের টিউলিপের এলাকা নির্ধারণে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া অনেক ছোট উদ্যোক্তা টিউলিপের বাল্ব সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করেছেন। আমি নিজেও কেওয়া পূর্ব খণ্ডগ্রামের একটি বাগানে টিউলিপের চাষ করেছি। এরই মধ্যে সব জায়গায় টিউলিপ ফুল ফোটায় এ নিয়ে ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মেটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফুল আমদানি করা হয়। ফুল চাষে জড়িয়ে আছে কৃষি অর্থনীতির একটি অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠলেও আমরা পিছিয়ে। অর্থনীতি ও চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিদেশি ফুল দিয়ে আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়। নানা প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে থাকিনি। এরই মধ্যে জার্বেরা, চায়না গোলাপের পর বিদেশি টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে এসেছে একের পর এক সফলতা। এখন হলো সম্প্রসারণের কাজ করে যাওয়া।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ফুল গবেষক) ফারজানা নাসরিন খান জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দেশে টিউলিপ ঘিরে এখন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগে শীতের সময় বাসাবাড়ির টবে অনেকেই টিউলিপের চাষ করলেও এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাগানে চাষ হচ্ছে এটা সত্যিই আনন্দের খবর। আমাদের দেশে টিউলিপের একটি বাজার আছে, দেশের বাইরেও বাজার আছে। কৃষি অর্থনীতিতে দারুণ একটি ছোঁয়ার আশা তৈরি হয়েছে। চাষ সম্প্রসারণে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও সহায়তার হাত বাড়াতে হবে।
এসজে/এএসএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ চট্টগ্রামে ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন, ১৬ আসনে জামায়াতের ভাগে ৯
- ২ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি সমর্থককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
- ৩ ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী গরুদৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
- ৪ সুনামগঞ্জে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপি ও এবি পার্টির প্রার্থী
- ৫ আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় মিন্টুর ভাই আকবরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা