ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

থমথমে কোম্পানীগঞ্জ, দু'পক্ষের প্রতিবাদ সভা স্থগিত

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী | প্রকাশিত: ০৩:১৮ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বসুরহাটের মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার ভাগনের লোকজনের সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দুই পক্ষ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। তবে সংঘাত এড়াতে দুপুরে দুই পক্ষই এ সভা স্থগিত করেছে। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রামপুর ইউনিয়নের বামনী বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

দুপুর ১টায় মেয়র কাদের মির্জা বামনী বাজারে গিয়ে বিকেলের ঘোষিত প্রতিবাদ সভা স্থগিত করেন। পরে প্রশাসনের অনুরোধে ভাগনে সিরাজিস সালেকিন রিমনও তার প্রতিবাদ সভা স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এর আগে বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রামপুরের (কাদের মির্জার ভাগনে) আনারস প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উল্যাহকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় সন্ধ্যায় বামনী বাজারে দুইপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা থামাতে গিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল আউয়াল সুমন বাদি হয়ে রাতে দুইপক্ষের ১৬ জনের নাম উল্লেখ পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা করেছেন। মামলা অজ্ঞাত আরও এক-দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে মামলার খবরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বামনী বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান করায় দুই পক্ষের প্রধান নেতাকর্মীরা ঘা-ঢাকা দিয়েছেন।

jagonews24

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আতঙ্কিত লোকজন বাজারে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে ভোট উৎসবে বাধা পড়েছে।

রামপুরের চেয়ারম্যান ও কাদের মির্জার সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, পুলিশ বিনা উস্কানীতে মেয়রপুত্র তাশিক মির্জাসহ তার কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে উল্টো তার লোকজনের নামে মামলা দিয়েছে।

অপরদিকে কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ প্রার্থী তার ভাগনে সিরাজিস সালেকিন রিমন বলেন, তার আনারস প্রতীকের কর্মী সাবেক চেয়ারম্যান আনছার উল্যাকে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাশিক মির্জার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। পুলিশ সমতা আনতে তার লোকজনকেও আসামি করেছে।

মেয়র পুত্র তাশিক মির্জা বলেন, মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল বাহার চৌধুরীর গণসংযোগের সময় আনারসের প্রার্থী সিরাজিস সালেকিন রিমনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হলেও পুলিশ অন্যায়ভাবে আমার লোকজনকে আসামি করে মামলা দিয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অভিযান অব্যাহত আছে।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, কোম্পানীগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের পরিবেশ অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনে কেউ ভিন্ন চিন্তা করলে ভুল করবেন।

উল্লেখ্য, ৭ ফেব্রুয়ারি সপ্তম ধাপে কোম্পানীগঞ্জের আট ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে কাউকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়নি।

ইকবাল হোসেন মজনু/এএইচ/জিকেএস