স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙার গুজবে আতঙ্কিত আশ্রয়ণের বাসিন্দারা
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ঠাঁই পাওয়া পরিবারগুলো বেশ ভালোই আছেন। তবে গুজব রটেছে ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে সেখানেও আশ্রয়ণের ঘর হবে। এতে গ্রামের কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ায় আতঙ্কিত এখানে ঠাঁই পাওয়া মানুষগুলো।
তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, ৬০ বছর ধরে পড়ে থাকা খাস জমিত আশ্রয়ণের ঘর করা হয়েছে। এতে বেশ কিছু অসহায় পরিবার এরইমধ্যে ঠাঁই পেয়েছেন। কেউ কেউ গুজব রটিয়ে গ্রামবাসীকে বিভ্রান্ত করছে।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে কথা হয় বিষ্ণুপদ দাশ (৬০) ও তার স্ত্রী শান্তি রানী দাশের (৫৭) সঙ্গে।
শান্তি রানী দাশ বলছিলেন, নাম শান্তি হলেও কপালে শান্তি খুব একটা জোটেনি। স্বামী ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার ছিলেন। ৪ মেয়ের ভরণ পোষণ আর বিয়ে দিতেই সব শেষ। টানাটানির সংসারে বাড়ি-ঘর করতে পারেননি। স্বামী অসুস্থ বলে এখন কাজও করতে পারেন না। শেষে তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে। কয়েকটি ছাগলই তাদের সম্বল। ক্ষেতুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বছরখানেক হলো ঠাঁই পেয়েছেন আশ্রয়ণে। এখন পাকা ঘর, নলকুপ, ল্যাট্রিন, রান্নার আঙিনা পেয়ে খুব খুশি তারা। কিন্তু সম্প্রতি গ্রামে রটে যাওয়া গুজবের কারণে তাদের মনে আতঙ্ক কাজ করছে।

একই রকম কথা জানান দুলালী রানী দাস। জানান, আগের চেয়ে ভালো আছেন। কিন্তু তারা শুনতে পাচ্ছেন তাদের উচ্ছেদ করে দেবে এলাকার কিছু লোকজন। এতে তারা ভয়ে রয়েছেন।
গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ শাহজাহান আলী জানান, তারাও শুনেছেন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়া হবে।
স্থানীয় বেশ কিছু লোকজন জানান, কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে গুজব রটিয়েছেন। আশ্রয়ণে অসহায় লোক আশ্রয় পেয়েছেন এবং পাবেন। এটা সরকারি উদ্যোগ। আবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিও সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই এ নিয়ে গুজব ছড়ানো দুঃখজনক।
স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক মো. টিক্কা জানান, কিছু অসহায় লোক এখানে আশ্রয় পাচ্ছেন, এটা ভালো খবর। তবে আশ্রয়ণও দরকার আবার হাসপাতালও দরকার। হাসপাতালটির উন্নয়ন দরকার।
এ ব্যাপারে ক্ষেতুপাড়া ইউপি’র ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, আশ্রয়ণে ঠাঁই পাওয়া মানুষগুলো গৃহহীন ছিলেন। তারা এখন ভালো আছেন। পাশে ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙা হবে বলে কিছু লোক গুজব তৈরি করে আশ্রিতদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।
ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনছুর আলম পিন্চু জানান, এখানে ২ একর তিন শতাংশ জমি দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেখানে এর আগে ১৩টি এবং ৩য় ধাপে আরো ২০টি পাকা ঘর নির্মাণ হয়েছে। আগে নির্মিত ঘরগুলোতে গৃহহীনরা বসবাস করছেন। নতুন করে ২০টি পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঘর প্রস্তুত আছে।

তিনি জানান, গ্রামের কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব রটিয়ে দিয়েছে আশ্রয়নের পাশে থেকে উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সরিয়ে নেওয়া হবে। এতে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে তিনি গ্রামবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম জামাল আহমেদ জানান, এস.এ এবং আর.এস রেকর্ড অনুযায়ী আশ্রয়ণের বর্তমান জায়গা ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত। এ সম্পত্তি দীর্ঘ বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ছিল। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জমি বৃটিশ আমলে বাছের নামক এক ব্যক্তি দান করেছিলেন বলে স্থানীয়রা কেউ কেউ জানান। তবে তার কোনো প্রমাণাদি স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে নেই। দীর্ঘ বছর ধরে খাস জমি হিসেবে অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল জমিটি। সেখানেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর একটি মহতী কাজকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখানেই থাকবে এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা সহজেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এফএ/এমএস