ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৪০০ বছরের ঐতিহ্য বয়ে চলছে কুড়িখাই মেলা

জেলা প্রতিনিধি | কিশোরগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শুরু হয়েছে প্রায় চারশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কুড়িখাই মেলা। আধ্যাত্মিক সাধক শাহ শামসুদ্দিন বুখারি (রহ.) এর উরস উপলক্ষে সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে এ মেলা শুরু হয়। সপ্তাহব্যাপী এ মেলায় রকমারি পণ্য ছাড়াও বড় আকারের মাছ দৃষ্টি কাড়ছে দর্শনার্থীদের।

বাউল সাধকদের আধ্যাত্মিক গান ও সুরের মূর্ছনায় মেলা প্রাঙ্গণে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আবহ। মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়।

জানা গেছে, প্রায় চারশ বছর আগে কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের কুড়িখাই এলাকায় আস্তানা গাড়েন ১২ আউলিয়ার অন্যতম আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শাহ সামছুদ্দীন আউলিয়া সুলতানুল বুখারি (রহ.)। তার মৃত্যুর পর সেখানে গড়ে ওঠে মাজার। প্রতি বছর হজরত শাহ সামছুদ্দীন আউলিয়া সুলতানুল বুখারি (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে বাৎসরিক উরস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুরিদ ও সাধকরা এখানে জড়ো হন। সেই থেকে মাজার সংলগ্ন খোলা ময়দানে প্রতি বছর বসে কুড়িখাই মেলা। শত বছরের পুরোনো এ মেলায় ঢল নামে লাখো মানুষের।

jagonews24

প্রতি বছর মাঘের শেষ সোমবার থেকে সপ্তাহব্যাপী বসে মেলা। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক বিধি-নিষেধের কারণে আয়োজকরা আনুষ্ঠানিকভাবে মেলা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নির্ধারিত দিনের আগ থেকেই শত শত বাউল মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন। ফলে বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে শুরু হয় মেলা।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলায় আসছেন প্রিয়জনকে নিয়ে। ঘুরে দেখছেন বাহারি খেলনা, প্রসাধনী, মুড়ি-মুড়কি, জিলেপি, চুড়ি-গহনাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কেউ চড়ছেন লাগরদোলায়।

মাছ বাজারে জামাইদের ভিড়

সবকিছু ছাপিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে মাছের বাজার। এলাকার রীতি অনুযায়ী কটিয়াদী উপজেলার জামাইরা মেলার সবচেয়ে বড় মাছটি কিনে তবেই যাবেন শ্বশুরবাড়ি। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মেলায়। বিক্রিও হচ্ছে বড় বড় রুই, কাতল, বোয়াল, চিতল, আইড়সহ নানা জাতের মাছ। কে কত বড় মাছটি কিনবে তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা।

jagonews24

আয়োজকরা জানান, কুড়িখাই মেলার শেষ দুদিন বরাদ্দ থাকে শুধু নারীদের জন্য। এদিন নারীরা কেনাকাটা করবেন। এ সময়কে বলা হয় বউমেলা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মেলা শেষ হবে।

কুড়িখাই মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুজ্জামান অপু জানান, করোনার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার আয়োজন করা হয়নি। তবে লোকজন নিজেরাই মেলার আয়োজন করে। আমাদের পক্ষে লাখো মানুষের স্রোত ঠেকানো সম্ভব নয়।

jagonews24

মেলায় ঘুরতে আসা কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, কুড়িখাই মেলা চিরায়ত বাংলার লোক ঐতিহ্য আর প্রাণের সম্মিলন। এ এলাকার মানুষের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দের কুড়িখাই মেলা। মেলা ঘিরে আশপাশের ৫০ গ্রামে বইছে উৎসবের আমেজ। বংশ পরম্পরায় এলাকার মানুষ ঐতিহ্যবাহী এ মেলা উদযাপন করে আসছে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সবাইকে মাস্ক পরাসহ সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

নূর মোহাম্মদ/এএইচ/এএসএম