গলদে ঠাসা লক্ষ্মীপুরের সেই সড়কের কাজে অসন্তোষ
মাসিক জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন হয়
ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশের সাড়ে ১০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাসিক জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তারা গলদে ঠাসা কাজটির মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
এদিকে ১১ ফেব্রুয়ারি জাগো নিউজে সড়কের ১০৫ কোটি টাকার কাজে ‘ডাকাতি’ শিরোনামে ভিডিওসহ একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মজু চৌধুরী ঘাট সড়ক নির্মাণ কাজে ঠিকাদার ইচ্ছেমতো করার বিষয়টি উপস্থাপন হয়। এসময় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও ডিসি মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনিয়মের বর্ণনা করেন। বিষয়টি নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে মাসিক জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় উপস্থাপনেরও সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না বলেন, রাস্তার নিম্নমানের কাজ ও অব্যাহত দুর্নীতির ব্যাপারে সভায় উপস্থাপন হয়। বিষয়টি ডিসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সড়ক সচিবকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অধিকাংশ বক্তা কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্র জানায়, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশালের চরকাউয়া থেকে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এর আওতায় লক্ষ্মীপুর অংশে রয়েছে মজু চৌধুরীহাট ফেরিঘাট থেকে লক্ষ্মীপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ। বাড়তি কাজসহ ১০৫ কোটি টাকা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. মঈনউদ্দিন (বাঁশি) লিমিটেড কাজটি পেয়েছে। কাজটি স্থানীয়ভাবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটের ইস্কান্দার মির্জা শামীম সমন্বয় করছেন। তিনি পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কথিত ভাগিনা। সড়কের এ কাজে শুরু থেকেই কার্যাদেশ মানা হচ্ছে না। প্রকৌশলী ছাড়াই ঠিকাদারের ইচ্ছামতো রাতেও কার্পেটিং কাজ করা হয়।
কাজল কায়েস/আরএইচ/জিকেএস