সন্তান দাবি করা শিশুসহ আটকের পর থানায় হিজড়াদের তাণ্ডব
টাঙ্গাইলে শিশু চুরির অভিযোগে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মনিকা নামে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। পরে পুলিশের কাছ থেকে সন্তানসহ তাকে আনতে ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালান তার সঙ্গীরা। হামলায় এরশাদ নামের এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় মনিকাসহ তৃতীয় লিঙ্গের তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে দাবি করেছেন তৃতীয় লিঙ্গের ওই ব্যক্তি মনিকা।
মনিকা জানান, ১০ বছর আগে তার নাম ছিল কামরুল। বিয়ে করে সংসার করেছেন বেশ কয়েক বছর। তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তান হয়। কিন্তু তিন বছর আগে তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এক পর্যায়ে তিনি হিজড়ায় রূপান্তরিত হন। এতে তার স্ত্রী সন্তান রেখে তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন।
এরপর থেকেই সন্তানটি তার কাছে রেখে মানুষ করছেন। সন্তানকে নিয়ে তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। শনিবার সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি জামালপুরে বেড়াতে যান। পরে সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিপাকে পড়েন।
এতে গাড়ির চালক ও অন্যরা তার সঙ্গে শিশুটিকে দেখে সন্দেহবশত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সদর উপজেলার রাবনা বাইপাসে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। পরে সেখান স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ শিশু সন্তানসহ তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি হিজড়াদের প্রধানকে ফোনে জানানো হলে সহকর্মীরা এসে তাকে ও তার সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। এতে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে হিজড়াদের কথা কাটাকাটি হয়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ শামিম হোসেন জানান, শিশু নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে একজন হিজড়া এমন খবর পেয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। হিজড়াকে আটকের খবর পেয়ে তার সহকর্মীরা এসে ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পরবর্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/জেআইএম