ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রবিশস্য সংরক্ষণে ব্যবহার হতো মটকা

জাহিদ পাটোয়ারী | প্রকাশিত: ০৯:৫৩ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

মটকা। মাটির তৈরি বিশালাকৃতির একটি পাত্রের নাম। প্রাচীন কাল হতে রবিশস্য সংরক্ষণে মটকার ব্যবহার হতো। ১৭৬ বছরের পুরনো ৩৪৫ কেজি ধারণক্ষমতার এমন একটি মটকার সন্ধান পাওয়া গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চুউরিয়া গ্রামে। ব্যক্তি উদ্যোগে প্রত্নসম্পদ হিসেবে এটি বর্তমানে গাজীপুরের জয়দেবপুর ব্রি রাইস মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাচীন কাল হতে মানুষ গৃহ কাজে ব্যবহারের জন্য প্রথম মাটির তৈজসপত্রের ব্যবহার শিখেছে। মাটির তৈরি এসব পাত্র প্রথমে রৌদ্রে শুকিয়ে পরে তা আরও টেকসই করার জন্য আগুনে পুড়িয়ে নানা রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করতেন। রবিশস্য নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হতো মাটির তৈরি মটকা। কালের আবর্তনে এটি হারিয়ে গেছে।

jagonews24

তবে এ স্মৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের জন্য স্বেচ্ছা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুমিল্লার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিএসও ড. আমিনুল ইসলাম ব্রি রাইস মিউজিয়ামে মটকাটি প্রদান করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নবীনগর থেকে মটকাটি ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুমিল্লার আঞ্চলিক কার্যালয়ে আনা হয়। এটি ১৮৪৬ সালের আগে তার পূর্বপুরুষরা ব্যবহার করতেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন জগো নিউজকে বলেন, প্রাচীন সময় থেকে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করার জন্য নানা ধরনের সঞ্চয় আধার ব্যবহার করা হতো। ঔপনিবেশিক সময়ে থেকে এ ধরণের সঞ্চয় আধার বা মাটির মটকার প্রচলন ছিল। ওই সময়ে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বিক্রমপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুরসহ দেশের যেসব অঞ্চলে সম্ভ্রান্ত মানুষ বসবাস করতেন সে এলাকাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মটকা পাওয়া যেতো।

jagonews24

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সিএসও ড. আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ঘরে পুরাতন মটকাটি পড়ে আছে। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার মটকাটি জয়দেবপুর ব্রি রাইস মিউজিয়ামে প্রদান করি।

জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/জিকেএস