কুমিল্লায় তিনদিনে সড়কে ঝরলো ৮ প্রাণ
রেললাইনে পড়ে ছিল নিহত এক স্কুলছাত্রীর বই, টিফিনবক্স। ছবি-জাগো নিউজ
কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রেনে কাটা পড়ে গত তিনদিনে পাঁচ শিশু, এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ অন্তত আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের চালক ও জনসাধারণ উভয়কে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় কুমিল্লাগামী বেপরোয়া একটি প্রাইভেটকার দুই পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলো- জেলার বুড়িচংয়ের শাহ দৌলতপুর এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে রবিউল (১৬) এবং একই এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে আনিস (৫)।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বেগমাবাদ এলাকায় মোটরসাইকেলে করে দুই কলেজছাত্র বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় সুগন্ধা পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অপরজনকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- রবিউল ইসলাম (২০) ও সজিব হোসেন (১৯)। রবিউল দেবীদ্বার পৌরসভার চেয়ারম্যান বাড়ির আর সজিব উপজেলার বড় আলমপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
একই দিন সকাল ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের দিকে যাচ্ছিলেন আবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. দিদার হোসেন (৪৫)। মহাসড়কের নাজিরা বাজার এলাকায় তিশা পরিবহনের একটি বাস তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এসময় স্থানীয়রা দিদারকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে বুধবার (৯ মার্চ) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর রেলক্রসিং দিয়ে তিন বান্ধবী একসঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল। এসময় চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মীম ও রিমার মৃত্যু হয়। তাসফিয়া ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে ছিটকে পড়ে সেও মারা যায়। পরে উত্তেজিত জনতা রেললাইন ও কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে।
নিহতরা সবাই বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার মধ্যে নিহত মীম কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মো. মাসুম মিয়ার মেয়ে, রিমা একই এলাকার রিপন মিয়ার মেয়ে এবং তাসফিয়া ওই এলাকার রোজিনা আক্তারের মেয়ে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক ও সাধারণ মানুষ উভয়কে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায় সড়ক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই বোধ করা সম্ভব নয়।
এমআরআর/এএসএম