অভিযানে সচল থাকলেও জনবলে ধুঁকছে নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিদপ্তর
রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকই ভোক্তা। আর এই ভোক্তা অধিকার সার্বজনীন। পণ্যের ন্যায্যমূল্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর সরব রয়েছে। প্রায় নিয়মিতই নারায়ণঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় তাদের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এখানে প্রয়োজনের তুলনায় জনবলের যথেষ্ট সংকট রয়েছে। জনবল কম থাকায় এখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে অনেক সময় সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও কাজ করতে হয়। সেইসঙ্গে তাদের নিজস্ব কোনো অফিসও নেই। শহরের ইসদাইর এলাকার একটি বহুতল ভবনে এক রুমের ভাড়া করা ফ্ল্যাট বাসায় তাদের কার্যক্রম চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক রুমের একটি ফ্ল্যাট বাসা নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার অফিসের কার্যক্রম চলছে। রুমের মাঝখানে পার্টিশন দিয়ে দুইভাগ করে একদিকে সহকারী পরিচালক বসেন আর অন্যদিকে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউার মুদ্রাক্ষরিক বসেন। এই দুইজন মিলেই নারায়ণগঞ্জের ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছেন। আপাতত পদও এই দুইটিই রয়েছে। এর বাইরে কোনো পদ নেই। ফলে এই দুইজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে ২০২১ সালের জুলাই থেকে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬২ তদারকিতে ১০৬টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এসকল প্রতিষ্ঠান থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২২ লাখ ৬৫ হাজার ২৫০ টাকা। একইসঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৪১ হাজার টাকা।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী দুলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ভোক্তা অধিকার আদায়ে অনেকবার মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। মাঝে মাঝে বাজারে গিয়েও তদারকি করে থাকি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জে যিনি আছেন তিনিও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাজারে গিয়ে তদারকি করে থাকেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান
তিনি আরও বলেন, অনেকেই ঠিকমতো জানে না কোথায় অভিযোগ করতে হবে? কিভাবে করতে হবে? অভিযোগ করলে কী পরিমাণ সুবিধা পাবে? এই বিষয়টা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সেমিনারে আমরা বলে আসছি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী করছে। আমরা চাই ভোক্তারা যেন সঠিক পণ্য পায়। সরকার যদি কঠোর হয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে তাহলে জনগণ সঠিক পণ্যটাই পাবে।
ভোক্তা অধিকার সংস্কার প্রয়োজন মনে করে তিনি বলেন, ভোক্তা আইনে বলা আছে কোনো ভোক্তা প্রতারিত হলে অভিযোগ করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। কিন্তু আমি স্বর্ণের দোকান থেকে ৪ লাখ টাকার কোনো জিনিস ক্রয় করলাম। পরে বুঝতে পারলাম আমার এখানে অর্ধেক স্বর্ণ দেওয়া হয়েছে। আমি অভিযোগ করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। সেখান থেকে আমি ২৫ পার্সেন্ট অর্থাৎ সাড়ে ১২ হাজার টাকা পেলাম। তাহলে অভিযোগ করেও আমার ২ লাখ টাকা লোকসানই থেকে গেলো। এক্ষেত্রে আমরা মনে করি ভোক্তা অধিকার আইন কিছুটা সংস্কার করা প্রয়োজন।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী দুলাল উদ্দিন
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছি। কোনো ভোক্তা অভিযোগ করলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
জনবল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনবলের সংকটতো কিছুটা রয়েই গেছে। এত বড় একটা জেলা, সেখানে আমরা মাত্র দুইজন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছি। তবে এটা তো সরকারের বিষয়। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে আরও জনবল বাড়াবে। আর যদি প্রয়োজন মনে না করে তাহলে আমাদের কী করার আছে?
এফএ/জেআইএম