ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মালয়েশিয়া পাচারকালে ৫৭ রোহিঙ্গা উদ্ধার, দুই পাচারকারি আটক

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০২:৩৪ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২২

অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে বঙ্গোপসাগরের টেকনাফ উপকূল থেকে ৫৭ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫। এসময় দুই পাচারকারিকে আটক করে পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর উপকূলের গভীর সাগরে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম সরকার।

আটক পাচারকারিরা হলেন- কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাগমারা এলাকার মোহাম্মদ সোহেল (৩২) এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশিখালী ইউনিয়নের ছামিরা পাড়ার মুছা কলিমুল্লাহ (৪২)। মুছা বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় বাস করেন।

এছাড়া, উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১১ জন শিশু, ২৪ জন নারী ও ২৩ জন পুরুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৭ জন রোহিঙ্গা এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে ছিলেন। আর বাংলাদেশির বাড়ি টেকনাফ উপজেলায়।

খাইরুল ইসলাম সরকার বলেন, টেকনাফের শামলাপুর উপকূল দিয়ে ট্রলার করে সাগরপথে কিছু লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচারের খবরে র‍্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। একপর্যায়ে গভীর সাগরে সন্দেহজনক একটি ট্রলার দেখতে পেয়ে জব্দ করা হয়। এসময় ট্রলারটির ডেকের নিচে বিশেষ কায়দায় জিম্মি করে রাখা অবস্থায় ৫৭ জন রোহিঙ্গা এবং একজন স্থানীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় দুই পাচারকারিকে।

jagonews24

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে বিভিন্ন পেশায় চাকরির প্রলোভনে উদ্ধার হওয়াদের জনপ্রতি ৫০-৫৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে আদায় করেন দালালরা। অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থানকারী পাচারকারি চক্রের জাহাজে ওঠার পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আদায় করার কথা ছিল।

খাইরুল বলেন, মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে গত তিনদিন আগে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তারা। পাচারকারি চক্রের সদস্যরা মালয়েশিয়াগামীদের ৪-৫ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ করে টেকনাফের হাফিজাপাড়ার পাহাড়ি এলাকার গোপন আস্তানায় জড়ো করেন। এক পর্যায়ে এরকম কয়েকটি দল একসঙ্গে জড়ো হওয়ার পর ছোট ছোট ট্রলারে করে গভীর সাগরে অবস্থানরত বড় জাহাজে তোলার ব্যবস্থা করে পাচারকারি চক্র।

তিনি আরও বলেন, আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শরণার্থী ক্যাম্পকেন্দ্রিক মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। এসব পাচারকারিরা গভীর সাগরে অবস্থানরত জাহাজে তুলে দেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে আসছিলেন। সাগরের বড় জাহাজের দালালদের হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।

উদ্ধার হওয়া লোকজনকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর এবং আটক পাচারকারিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল।

এর আগে গত ২১ মার্চ দুপুরে মহেশখালীর সোনাদিয়া এলাকা থেকে ১৪৮ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে মহেশখালী থানা পুলিশ। একইদিন ভোররাতে মালয়েশিয়া বলে তাদের সোনাদিয়া চরে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান দালালরা। পরে তাদের ভাসানচর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম।

সায়ীদ আলমগীর/আরএইচ/এমআআর/জিকেএস