ঘাস খেয়ে কৃষকের চোখের সামনে একে একে মারা গেলো ৩ গরু
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চকসাহাবাজপুর গ্রামে আব্দুল বারীর বাসায় ঘাস খেয়ে তিনটি গরু মারা গেছে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ঘাস খেয়ে তিনটি গরু মারা গেছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছে আরও দুটি গরু ও দুটি ছাগল। গরু তিনটির মৃত্যুর কারণ বলতে পারছে না মালিক ও প্রাণিসম্পদ অফিস। তবে এখনই ঘাসের নমুনা সংগ্রহের সময় আসেনি বলে জানিয়েছেন ভেটেরিনারি সার্জন।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চকসাহাবাজপুর গ্রামে আব্দুল বারীর বাসায় একে একে তিনটি গরু মারা যায়।
কৃষক আব্দুল বারী ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ক্ষেতে চাষ করা ঘাস কেটে বাড়ি এনে রাখেন আব্দুল বারী। পরে সন্ধ্যায় পাঁচটি গরু ও দুটি ছাগলকে খেতে দেন। রাত সাড়ে ৮টায় আব্দুল বারীর স্ত্রী আছলেমা বেগম দেখতে পান তার গোয়ালঘরে একটি গরু দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ মাটিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গরুটিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এরই মধ্যে গরুটি মারা যায়।

এর কিছুক্ষণ পর একই গোয়ালঘরে আরেকটি গরু মারা যায়। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে খবর দিলে ভেটেরিনারি সার্জন নিয়ামত আলী ঘটনাস্থলে এসে বাকি গরু ও ছাগলগুলোর চিকিৎসা দেন। চিকিৎসা চলাকালীন আরেকটি গরু মারা যায়। বর্তমানে ওই গোয়ালঘরে আরও দুটি গরু ও দুটি ছাগল অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আব্দুল বারী বলেন, ‘আমি কয়েক বছর ধরে নিজের ক্ষেতে চাষ করা ঘাস বাইরে বিক্রি করে এবং নিজের গরু ও ছাগলকে খাওয়াই। আমার চাষ করা ঘাসে কোনোদিন এমন সমস্যা হয়নি। কেন এমন হলো আমি বুঝতে পারছি না।’
ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নিয়ামত আলী বলেন, ‘আব্দুল বারীর বাসায় দুটি গরুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমার সামনে আরেকটি গরু মারা যায়। নাইট্রিক পয়জনিংয়ের কারণে গরুগুলো মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে।’
তবে গরু তিনটি মারা যাওয়ার পর কোনো ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। তবে আরও যদি গরু মারা যায়, তাহলে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহানুর আলম বলেন, ‘ঘাস খেয়ে তিনটি গরু মারা যাওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ ব্যাপারে ভেটেরিনারি সার্জন ভালো বলতে পারবেন।’
এমদাদুল হক মিলন/এসআর/জিকেএস