ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাবার মৃত্যুর পর পাল্টে যান দুলাল, এক যুগ ধরে শিকলবন্দি

জেলা প্রতিনিধি | নারায়ণগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২২

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়ার (৩০)। শিকল খুলে দিলে অন্যের ক্ষতি করেন তাই মানসিক ভারসাম্যহীন দুলালকে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বেঁধে রাখা হয়। পরিবারের আর্থিক দৈন্যতার কারণে চিকিৎসাও হচ্ছে না। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাকে শিকলে আটকে থাকতে হচ্ছে।

দুলালের মা ডলি বেগম বলেন, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে আমার সুখের সংসার ছিল। আমরা ভালোই ছিলাম। এরই মধ্যে ২০০৭ সালে আমার স্বামী বুলু মিয়া মারা যান। এরপর থেকেই আমার একমাত্র ছেলে দুলাল ছন্নছাড়া হয়ে যায়। পরের বছর থেকেই ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বর্তমানে আমার আর আর্থিক সামর্থ্য নেই।

তিনি বলেন, আশা ছিল ছেলেকে পড়াশোনা করাবো। ছেলেটা মেধাবীও ছিল। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। কিন্তু কোনো এক ঝড়ে যেন আমার সব শেষ হয়ে গেলো। আমার স্বামীও চলে গেলো, ছেলেটিও পাগল হয়ে গেলো। তাকে বেঁধে না রাখলে মানুষের ক্ষতি করে। মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে মারধর করে। প্রথম দিকে তাকে বেঁধে রাখতাম না। কিন্তু এখন আর পারি না।

বাবার মৃত্যুর পর পাল্টে যান দুলাল, এক যুগ ধরে শিকলবন্দি

ডলি বেগম আরও বলেন, মানুষজন বিভিন্ন কথা বলে। আমার চোখের সামনে ছেলেটিকে শিকল দিয়ে বাঁধা থাকে। মা হয়ে আমি এটা সহ্য করতে পারি না। কিন্তু কী করবো? আমার তো কোনো উপায় নেই। টাকা-পয়সাও নেই যে চিকিৎসা করাবো। ছেলেটির জন্য বড় মেয়ে রাখিকে বিয়ে দিতে পারছি না। বিয়ে করলে আমরা অসহায় হয়ে যাবো, এই জন্য মেয়েটা বিয়ে করছে না। কিন্তু তারও তো জীবন আছে।

প্রতিবেশী শাকিলা বেগম বলেন, ছেলেটি ভালো ছিল। পড়াশোনাতেও ভালো ছিল। কিন্তু তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই যেন সব উলট-পালট হয়ে গেলো। সারাদিন তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়। ডাক্তাররা বলেছিল, চিকিৎসা করাতে পারলে ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তো তাদের নেই। সমাজের কোনো বিত্তবান ব্যক্তি এগিয়ে আসলে হয়তো ছেলেটি সুস্থ জীবন ফিরে পেতো।

বাবার মৃত্যুর পর পাল্টে যান দুলাল, এক যুগ ধরে শিকলবন্দি

প্রতিবেশী সুমন বলেন, ছেলেটি ছোটকালে ভালো ছিল। আমাদের চোখের সামনেই থাকতো। কিন্তু তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই যেন কী হয়ে গেলো। সারাদিন তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. আফজাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু আমার নির্বাচনী এলাকা সে হিসেবে আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি। যদি এরকম সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে আমি তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। একজন মানুষকে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা খুবই দুঃখজনক বিষয়। আমি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর/জেআইএম