ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বগুড়ায় রঙিন ইজিবাইকে যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২২

বগুড়া শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ রিকশার দৌরাত্ম কমাতে নতুন করে দুই হাজার ইজিবাইকের অনুমোদন দিচ্ছে প্রশাসন। তবে এক্ষেত্রে শহরে চলাচলরত কেবল বিদেশ থেকে আমদানি করা ইজিবাইকগুলো অনুমোদন পাবে।

আর অনুমোদন পাওয়া এসব ইজিবাইকে দুই ধরনের রং করে সপ্তাহে তিনদিন করে এক রঙের গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো শহরের ভেতরে চলতে পারবে না। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত করতে এর আগে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন একটা সফলতা আসেনি। এখন নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের যানজট নিরসন কমিটি গঠন করা হয়।

দেখা গেছে, বগুড়া শহরে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও সেটি পরিকল্পিত নয়। অনেক সময় যানজটের চাপে তারাও দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। শহরের মূল পয়েন্ট দিয়ে একটি রেলপথ রয়েছে। এই রেলপথ দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১৮ বার ট্রেন আসা-যাওয়া করে। প্রতিবার সড়কের সিগন্যালগুলো কমপক্ষে ৩০ মিনিট বন্ধ থাকে।

শহরে পায়ে ও ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক মিলিয়ে অর্ধলক্ষাধিক যানবাহন চলে। এসব গাড়ির চালকরা মানেন না ট্রাফিক আইন। যত্রতত্র করছেন পার্কিং, রং সাইড-রাইট সাইড এবং কোনো সিগন্যালের তোয়াক্কা নেই তাদের। এসব অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল শহরে যানজটের বড় একটি কারণ। এছাড়া যানজটের অপর একটি কারণ ফুটপাত এবং রাস্তার দু’পাশ দখল করে বসানো দোকানপাট আর যত্রতত্র পার্কিং। সড়ক প্রশাসন থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণে গত মার্চেই শহরের ভেতর ফুটপাত এবং রাস্তা দখল করে বসা দোকানপাট উচ্ছেদ করার কথা থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। তবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং নিষেধ সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে তারা।

বগুড়ায় রঙিন ইজিবাইকে যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা

শহরের সাতমাথা, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, চাঁদনি বাজার, বড়গোলা, জলেশ্বরীতলা, শেরপুর রোড, গোহাইল রোডসহ বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সড়কেরই দু’পাশে গড়ে ওঠা দোকানপাটগুলো ফুটপাতের অনেকাংশ দখল করে পণ্য রেখেছে। কোথাও ফুটপাতেই বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট। আবার কোথাও রাস্তার দু’পাশ জুড়ে ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানপাট বসানো হয়েছে। এছাড়া কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে ফুটপাতেই সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে জুতা-স্যান্ডেলের দোকান। ক্রেতাদের চাপে বাধ্য হয়েই ফুটপাত থেকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে পথচারীদের। এছাড়া শহরের প্রতিটি সড়কেই অবৈধ পার্কিংয়ের ছড়াছড়ি। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের যানবাহনের দখলে থাকে শহরের ভেতরের রাস্তাগুলো। পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলাম সড়কেই আকবরিয়া, শ্যামলী, এশিয়াসহ আরও বেশ কয়েকটি হোটেল থাকায় হোটেলের মালবাহী ভ্যানগাড়ি এবং রেস্টুরেন্টে খেতে আসা ব্যক্তিদের যানবাহনেও যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

বাদুরতলা এলাকায় ট্রান্সপোর্ট/কুরিয়ার সার্ভিস থাকায় বড় কার্গো গাড়ি সারাদিন ওই এলাকায় প্রবেশ করে। দিনে এই গাড়িগুলোর একটি অংশ ওই এলাকায় প্রবেশ করলেই যানজটের সৃষ্টি হয়। যে যানজটমুক্ত হতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪০ মিনিট। একই অবস্থা পার্ক রোডেরও। সরু এই রোডেও একাধিক কুরিয়ার সার্ভিস থাকায় দিনে কয়েকবার তাদের বড় আকারের মালবাহী কাভার্ডট্রাক প্রবেশ করা এবং বের হওয়ার সময় যানজট বেঁধে যায়। যেটি নিরসন হতে সময় লেগে যায় দীর্ঘক্ষণ।

টিনপট্টি এলাকায় দিনে রড সিমেন্ট এবং টিনের ট্রাক থেকে মাল লোড-আনলোড করা হয়। ওই রাস্তাটি সরু হওয়ায় একটি বৃহৎ আকারের ট্রাক প্রবেশ করলেই যানজটের সৃষ্টি হয়। যেটা নিরসন হতেও সময় লেগে যায় ২/৩ ঘণ্টা। এভাবে দিনের বেলা একের পর এক মালবাহী ট্রাক প্রবেশ করায় দিনের পুরোটা সময়ই যানজট লেগে থাকে টিনপট্টি এলাকায়।

বগুড়ায় রঙিন ইজিবাইকে যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা

বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, জনবল কম হওয়ায় ব্যস্ততম শহরে মাঝেমধ্যে একটু যানজট লেগে যায়। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে তিনি যানজটের মূল কারণ হিসেবে রেলের লেভেল ক্রসিংকে দায়ী করেন। শহরে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট যানজট বাড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, পৌর এলাকা যানজটমুক্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিছু অরাজকতা আছে, এগুলো ঠিক করা হবে। জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা মতো আমরা কাজ করে যাব।

বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, পৌর মেয়রসহ সব কাউন্সিলর এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমরা বসেছিলাম। আমরা বেশকিছু পয়েন্ট আইডেন্টিফাই করেছি যে জায়গাগুলোতে যানজট বেশি হচ্ছে। এই পয়েন্টগুলোতে আমাদের পুলিশ কাজ করবে। পৌরসভা থেকে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করবে এবং বিভিন্ন মার্কেটে যাদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আছে সেখান থেকেও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, বগুড়া শহরে চলাচলরত আমদানি করা ইজিবাইককে অনুমতি সনদ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সেগুলো দুই রঙে বিভক্ত করা হবে। সপ্তাহে তিনদিন করে এক রঙের গাড়ি শহরে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো শহরতলীতে চলাচল করবে।

এমআরআর/জেআইএম