ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মাদরাসার ছাত্র সংসদ ভবন ভেঙে চলছে দোকান নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশাল | প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২২

বরিশালের মুলাদীতে চরপদ্মা ইসলামিয়া রাশিদিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রায় তিন যুগের পুরোনো ছাত্র সংসদের ভবন ভেঙে দোকান নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই শ্রমিক দিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের। এসময় একটি ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। ভবনটি ভাঙা শুরুর পর পরই সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের বাধা উপেক্ষা করে মাদরাসার অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদটি ভেঙে ফেলেন।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত ভবনটি ভাঙার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকালে মাদরাসার ছাত্র সংসদ ভাঙার কাজ শুরু হয়।

মাদরাসার একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরপদ্মা গ্রামে ১৯৪১ সালে চরপদ্মা ইসলামিয়া রাশিদিয়া ফাজিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালে মাদরাসার ছাত্র সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৯১ সালে শিক্ষার্থীরা চাঁদা তুলে ছাত্র সংসদ ভবন নির্মাণ করেন। এর পর থেকে ছাত্ররা সংসদের কার্যক্রম ওই ভবনেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।

ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সফিপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও আরিফ মুন্সী জানান, বহুদিনের পুরোনো মাদরাসা ছাত্র সংসদটি ঐতিহ্য বহন করে আসছিলো। আমি ২০১০ সালে ওই মাদরাসার জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ছাত্র সংসদ অনেক সক্রিয় এবং দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে আসছে। অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত করার পায়তারা করছেন। ছাত্রদের টাকা নির্মিত ভবনটি ভেঙে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করছেন।

আরিফ মুন্সী বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, মাদরাসা অধ্যক্ষ এরমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ছাত্র সংসদের জায়গায় দোকান নির্মাণ হবে। নির্মাণের পর ওই দোকান ভাড়া নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের জন্য অধ্যক্ষ উৎসাহিত করছেন।

মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র তারেক মুন্সী ও মাওলানা নাসির উদ্দিন জানান, অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের অর্থায়নে নির্মিত ছাত্র সংসদের ভবন ভেঙে দোকান নির্মাণ করছেন। তিনি নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করছেন। গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি মাদরাসার ফলদ গাছ কেটে ফেলেছেন এবং ছাত্র সংসদ ভেঙে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছেন।

তারা আরও বলেন, পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা ছাড়াও খেলাধুলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সংস্কৃতিচর্চা, সৃজনশীল জ্ঞানের চর্চা, তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়, মাদরাসা প্রাঙ্গণে বহিরাগত ঠেকানো, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্ব নিতে মেধাবী, ত্যাগী ও যোগ্যদের তৈরি করতে ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। কিন্তু অধ্যক্ষের কারণে ছাত্র সংসদ ভবন ভেঙে ফেলায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আলী জানান, সংস্কারের অভাবে ভবনটি অনেকটাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। তাই ভবনটি সংস্কার করা হচ্ছে। সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। প্রাক্তন ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় কিছু মানুষ বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসার ছাত্র সংসদ ভেঙে দোকান নির্মাণ কিংবা ফলদ গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে এ ধরনের কাজ হয়ে থাকলে ঠিক হচ্ছে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর মোহাম্মদ হোসাইনী বলেন, ছাত্র সংসদ ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা বা রাজনীতিতে মেধা ও যোগ্য নেতৃত্ব ছাত্র সংসদ খুবই জরুরি। সেখানে ছাত্রদের টাকা নির্মিত ছাত্র সংসদ ভবন ভেঙে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা হবে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সাইফ আমীন/আরএইচ/এএসএম