স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা, চিকিৎসাবঞ্চিত ১৫ গ্রামের মানুষ
ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার স্বপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ছয় মাস ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে। সেখানে চিকিৎসক, উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো), ফার্মাসিস্ট ও নিরাপত্তা প্রহরীরাও যাচ্ছেন না। ফলে ওই এলাকার প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উপজেলার মারুকা ও বিটেশ্বর ইউনিয়নের স্বপাড়া, কয়রাপুর, গোপালপুর, ঘোষেরকান্দি, নৈয়ার, কাটারাপাড়া, মনগৈর, চক্রতলা, ওঝারখোলা, চিনামূড়া ও চন্দ্রশেখরদী গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চ থেকে স্বপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ওই বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট পদটিও শূন্য রয়েছে।
আর স্যাকমো মধু মঙ্গল ঘোষ ২০২০ সালের মার্চ থেকে উপজেলার মালিগাঁও হাসপাতালে প্রেষণে কাজ করছেন। নিরাপত্তাপ্রহরী নাছির উদ্দিন ২০২০ সালের মার্চ থেকে পৌর সদরের দোনারচর ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে কাজ করছেন। চিকিৎসক কাওয়াদা খানম দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত।
সরেজমিনে গেলে মারুকা ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি ৮০-৯০ বছরের পুরোনো। সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং চিকিৎসক, স্যাকমো, ফার্মাসিস্ট, নিরাপত্তাপ্রহরীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বহু আন্দোলন, সংগ্রাম ও মানববন্ধন করেছি আমরা। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকেও জানিয়েছি। ওনারা আশ্বস্ত করেছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন করছেন না।
স্বপাড়া গ্রামের কালাম খান, আবুতাহের প্রধান, মো. ইমন মিয়া, তাছলিমা বেগম, মো. আলাউদ্দীন তালুকদার, মো. শাহপরান, মো. মফিজুল ইসলাম, মো. বাবুল মিয়া, বৃদ্ধা মাফিয়া খাতুন জাগো নিউজকে জানান, এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিটেশ্বর ও মারুকা ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৫টি গ্রামের লোকজন নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসেন। ছয় থেকে সাত কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। তাই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নতুন করে নির্মাণ করে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী জনগণের দুয়ারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মারুকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ এস এম শাহজাহান ভূইয়া জাগো নিউজকে জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদ আল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, স্বপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ছয় মাস ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করতে সর্বশেষ ২ এপ্রিল জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
এফএ/এমএস