ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১০ কেজির চালে ৩-৫ কেজি কম দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২২

বগুড়ার আদমদীঘিতে একটি পৌরসভা ও ছয় ইউনিয়নে ওজন না দিয়ে বালতিতে করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অনেকে ৩-৫ কেজি করে চাল কম পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকারভোগীদের মধ্যে অনেকে ১০ কেজির জায়গায় ৫ কেজি আবার কেউ ৭ কেজি করে চাল পেয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৪ হাজার ২৮১ জনের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৬৬০ জন এবং সান্তাহার পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১ জনের মধ্যে এসব চাল বিতরণ করা হয়। সোমবার (২৫ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চাল বিতরণ কার্যক্রম চলে।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নে ১ হাজার ৭৬৩ জনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল নিতে আসা ওই ইউনিয়নের আসলাম, রাজু, রাশেদা ও ইমরোজ নামের কয়েকজন সুবিধাভোগী অভিযোগ করে বলেন, ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও না মেপেই বালতিতে করে চাল দেওয়া হয়েছে। পরে এসব চাল মেপে দেখতে পান প্রতিজন ৫-৭ কেজি করে পেয়েছেন।

এ বিষয়ে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হক আবু বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়। সবাইকে ১০ কেজি করেই চাল দেওয়া হয়েছে।

স্লিপধারী উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার বুচিয়া রাণী ও সাবিত্রি রাণী চাল পেয়েছেন ৬ কেজি করে। জানতে চাইলে পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু বলেন, ‘কার্ডধারী প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। হয়তো যারা কার্ড ছাড়া চাল পেয়েছেন তাদের পরিমাণে কম হতে পারে।’

jagonews24

নশরতপুর ইউনিয়নের ডুমুরিগ্রামের বিপ্লব নামের এক সুবিধাভোগী ১০ কেজির জায়গায় ৭ কেজি চাল পান। পরে অভিমান করে তিনি চাল না নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নশরতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি দাঁড়িয়ে থেকে চালগুলো বিতরণ করেছি। চাল কম পাওয়ার ঘটনা নেই। শত্রুতামূলকভাবে কেউ বিষয়টি ছড়াচ্ছে।’

বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকালে সান্তাহার ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০২ জনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়। ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের ছালেহা বেওয়া বলেন, ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম চাল পেয়েছি। গত ঈদে পেয়েছিলাম সাড়ে ৭ কেজি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাহিদ সুলতানা তৃপ্তি বলেন, ‘ট্যাগ অফিসার, ইউপি সচিব ও সদস্যদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হয়েছে। কার্ডধারী ছাড়াও অনেক গরিব ও দুস্থ মানুষকে চাল দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে শত্রুতামূলকভাবে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমির হোসেন বলেন, বালতিতে করে বা চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় চাল বিতরণের জন্য একজন করে ট্যাগ অফিসার দেওয়া রয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবণী রায়ের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

এসআর/জিকেএস