দুর্ভোগ নিয়েই কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই ঢাকায় ফিরছে মানুষ
ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরতে মহাসড়কে ঢাকাগামী মানুষের ঢল নামে শনিবার সকাল থেকেই। এই যাত্রীদের চাপের সঙ্গে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ছয় লেনের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় বগুড়া অংশের কয়েকটি স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
রোববারও (৮ মে) দেখা গেছে, কর্মস্থলে ফেরার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ঢাকামুখী নারী-পুরুষরা। যে যেভাবে পারছেন সেভাবে পাড়ি জমাচ্ছেন রাজধানীর পথে। এই সুযোগে সব রকমের পরিবহনে উচ্চ ভাড়া হাঁকা হচ্ছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বগুড়া থেকে ট্রাকে ঢাকায় দাঁড়িয়ে যেতে হলেও ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৬০০ টাকা। আর সিটে বসে যেতে ভাড়া দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা। বিআরটিসির ডাবল ডেকার বাসে দাঁড়িয়ে ৫০০ আর বসে যেতে ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা গাজীপুর পর্যন্ত। অ্যাম্বুলেন্সে যেতে জনপ্রতি ১ হাজার থেকে বারশো টাকা। এসি কোচ ১ হাজার ১০০ টাকার স্থলে প্রতিসিট ভাড়া নিচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা।

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুরের অনেক যাত্রী মোটরসাইকেল নিয়ে সপরিবারে শরীরে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকার পথে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে হাতে-পায়ে গার্ডার, মাথায় হেলমেট পরে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন তারা।
আমিনুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, তিনি এভাবে পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে দিনাজপুর এসেছিলেন। এখন একইভাবে আবার ঢাকায় ফিরছেন। বৃষ্টিতে যাতে না ভিজতে না হয় সেজন্য রেইন কোর্ট সঙ্গে নিয়েছেন।
বগুড়া শহরের বনানীতে পরিবহনের অপেক্ষায় সকাল থেকে হাজারো লোকজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। একটু কম ভাড়ায় যেতেই এই অপেক্ষা। অনেক মিনি ট্রাক গাজীপুর যেতে ৩০০ থেকে থেকে ৫০০ টাকা নিচ্ছে। বাস, ট্রাক, মিনি ট্রাকের হেলপারদের সঙ্গে দরকষাকষি করে যে যত কমে পাচ্ছেন তা দিয়ে রওয়ানা দিচ্ছেন।

চান্দাইকোনা মহাসড়কে সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়নি, একই অবস্থা মহাস্থানগড়েও। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া শহরতলির পুরান বগুড়া এবং চারমাথা, বারপুর ও মাটিডালি এলাকায় ছোট ছোট যানজট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন চালকরা।
বগুড়া থেকে ঢাকাগামী বেশ কয়েকটি ট্রাকের চালক জানান, বগুড়া অংশের কাজ যে হারে হয়েছে সেই তুলনায় সিরাজগঞ্জ অংশের কাজের অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে এ মহাসড়কজুড়ে থাকছে গাড়ির ধীর গতি। বিশেষ করে বগুড়া অংশে চান্দাইকোনা ও মহাস্থান ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
একতা পরিবহনের চালক আব্দুল মতিন জানান, অনেক স্থানেই কাজ সম্পন্ন হয়নি, আবার বেশকিছু পয়েন্ট রয়েছে যেখানে স্বাভাবিক সময়েই যানজট থাকে। ঈদের সময় যেহেতু সড়কে গাড়ির পরিমাণ বেশি তাই কিছুটা যানজট হচ্ছে।

এ বিষয়ে হাইওয়ে বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুনশী শাহাবুদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঈদের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি সড়কে থাকে। এ কারণে কিছু সমস্যা হবে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে সাসেক প্রকল্পে সেতুর কাজ চলমান, সে কারণে সমস্যা থাকলেও কোনো দুর্ভোগ যাতে না হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
বগুড়া অংশের মধ্যে মহাস্থানগড় ও চান্দাইকোনা ছাড়া অন্য কোথাও তেমন সমস্যা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈদের ফিরতি এ সময়টুকু যেভাবেই হোক মহাসড়কে যেমন যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের সহায়তা গ্রহণের পাশাপাশি মহাসড়কে কোনো গাড়ি বিকল হলে তা অপসারণে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এমআরআর/জিকেএস