ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাগেরহাটে ‘ভাইরাসে’ মরছে চিংড়ি

জেলা প্রতিনিধি | বাগেরহাট | প্রকাশিত: ১১:৪৫ এএম, ০৯ মে ২০২২

বাগরহাটের রামপাল ও মোংলায় ভাইরাসে মরছে ‘সাদা সোনা’ খ্যাত চিংড়ি মাছ। ফলে মৌসুমের শুরুতেই এ দুই উপজলায় কোটি টাকা লোকসানের আশংকা করছেন চিংড়ি চাষিরা। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, অপরিকল্পিত ঘের তৈরি আর ভাইরাসযুক্ত পোনার কারণে এমনটা হতে পারে।

জানা গেছে, রামপাল ও মোংলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার চিংড়ি ঘের রয়েছে। গত এক সপ্তাহর ব্যবধানে দুই উপজলার বিভিন্ন ঘেরে হঠাৎ করে চিংড়ি মাছ মরতে শুরু করে। তবে কি কারণে মরছে চাষিরা তার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের ধারণা, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েই মাছ মরে যাচ্ছে।

রামপাল উপজেলার ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, ইউনিয়নের ৮০ ভাগ চিংড়ি ঘেরে মড়ক লেগেছে। কি কারণে মাছ মরছে তা তো কেউ বলতে পারছে না।

jagonews24

উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের চিংড়ি চাষি রাজীব সরদার বলেন, ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ ঘেরের চিংড়ি মরেছে। যারা ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছে তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে। উপজেলার রাজনগর, বাইনতলা ও পেড়িখালি ইউনিয়নের সব চিংড়ি ঘেরের অবস্থা একই রকম বলে জানান তিনি।

মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন সরদার বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে মাছ ছেড়েছিলাম। গত চারদিন ধরে মাছ মরতে শুরু করেছে। মরা মাছ তুলে দেখি প্রতিটি মাছের গায়ে সাদা সাদা স্পট। কি রোগে মাছ মরছে, তা তো বুঝতে পারছি না।

একই উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকার বাসিন্দা মারুফ হাওলাদার বলেন, এর আগেও ঘেরে মাছ মরেছে, কিন্তু এত দ্রুত কখনও মাছ মরেনি।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম রাসেল বলেন, রামপাল ও মোংলা উপজেলার প্রায় ২০ হাজার চিংড়ি ঘেরের ৩৫ শতাংশে মাছ মরেছে বলে জেনেছি। মাছ মরার কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গরম, হোয়াইট স্পট সিনড্রম ভাইরাস বা মৌসুমের শেষে ভাইরাস যুক্ত চিংড়ি ঘেরে ছাড়ায় এমনটা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জেলার অধিকাংশ ঘের প্রস্ততির আগে চাষিরা বিøচিং পাউডারসহ ভাইরাস মুক্ত করণের যে সব পদ্ধতি আছে তা প্রয়াগ করে না। এছাড়া পোনা ছাড়ার আগে সেটি ভাইরাস মুক্ত কিনা তা পিসিয়ার পরীক্ষা না করেই ছাড়ে। এসব কারণে মাছ মরতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এএইচ/জিকেএস