ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রশীদ এগ্রোতে পরিদর্শক টিম, মেলেনি চালের বাড়তি মজুত

জেলা প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া | প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ৩১ মে ২০২২

ঘড়ির কাটায় তখন বিকেল ৫টা। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে হঠাৎ করেই পাঁচ সদস্যের একটি পরিদর্শক দল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রশীদের অটো রাইচ মিল রশীদ এগ্রো পরিদর্শনে যায়। উদ্দেশ্য সেখানে কী পরিমাণ ধান-চাল মজুত রয়েছে তা দেখা।

তবে সেখানে বাড়তি কোনো ধান-চালের মজুত দেখতে পায়নি পরিদর্শক দল। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবস্থান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রশীদ এগ্রো ত্যাগ করেন তারা। এর আগে তাদের আপ্যায়ন করে রশীদ এগ্রো।

পরিদর্শন টিমে অন্যদের মধ্যে ছিলেন জেলা বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) মো. আব্দুল খালেক ও খাদ্য পরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে থেকেই মিলে অবস্থান করছিলেন আব্দুর রশীদ। পরিদর্শন টিম সেখানে গেলে অভ্যর্থনা জানিয়ে তিনি তার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। এ সময় ফল, বিস্কুট ও মিষ্টি দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়। পরিদর্শন টিম আপ্যায়ন শেষে আব্দুর রশীদের চারটি মিল পরিদর্শন করেন এবং গোডাউনগুলোতে কী পরিমাণ ধান-চালের মজুত রয়েছে তার খোঁজখবর নেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানান, রশীদের চারটি মিলে বাড়তি কোনো ধান-চালের মজুত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনের সময় তারা রশীদের গোডাউনগুলোতে সবমিলিয়ে চার হাজার মেট্রিক টন ধানের মজুত দেখতে পান। এ সময় সেখানে ৬০ মেট্রিক টন চাল ট্রাকে লোড হতে দেখা যায়। বলতে গেলে রশীদের গোডাউনে চালের কোনো মজুত ছিল না বলে জাগো নিউজকে জানান এ খাদ্য কর্মকর্তা।

একজন মিলার কত মেট্রিক টন ধান-চাল মজুত রাখতে পারেন, এ প্রশ্নের উত্তরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, একটি মিলে এক মাস পর্যন্ত ১৮৯৬ মেট্রিক টন ধান মজুত রাখা যাবে এবং চালের ক্ষেত্রে ১৫ দিন মেয়াদ পর্যন্ত ১২৪৮ মেট্রিক টন পর্যন্ত মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে।

jagonews24

খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরোও জানান, গত ২১ মে থেকে পরিদর্শনের সময় পর্যন্ত ১০ দিনের স্টক খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে সেখানে বাড়তি কোনো মজুত পাওয়া যায়নি।

চালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ধানের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া হঠাৎ করে ঢাকায় চালের চাহিদা বেড়ে গেছে। আগে যেখানে একটি মিল থেকে ৮-১০ ট্রাক চাল রাজধানী ঢাকায় যেতো, এখন প্রতিদিন এক একটি মিল থেকে ১৮-২০ ট্রাক করে চাল যাচ্ছে ঢাকায়। একদিকে চাহিদা বেশি অন্যদিকে ধানের বাজার চড়া। এসব কারণে চালের দাম বাড়ছে।

প্রায় আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় রশীদের মিলে অবস্থান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখান থেকে বের হয়ে দেশ এগ্রোতে যায় পরিদর্শন টিম। তবে সে সময় তাদের অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টক দেখে সেখানে কয়েক মিনিট অবস্থান করে আবার শহরে ফিরে আসেন তারা।

রশীদ এগ্রাতে গিয়ে আপ্যায়িত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, উনারা ফলমূল দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন। তবে আমরা তা খাইনি। বিনয়ের সঙ্গে উঠে এসেছি।

তিনি আরও জানান, চালসহ বাজারদর নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাজার মনিটরিং কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে।

আব্দুর রশীদ দেশের ১০ জন শীর্ষ চাল ব্যবসায়ীর মধ্যে অন্যতম। তিনি বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং রাইচ মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি। সারাদেশের হাতেগোনা যে কজন ব্যবসায়ী চালের বাজারদর ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন আব্দুর রশীদ তাদেরই একজন। তার চারটি চালের মিল রয়েছে। সবগুলোই অটো রাইচ মিল।

আল মামুন সাগর/এসআর/এএসএম