ধুনটে মুগ্ধতা ছড়ালো গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠিখেলা
গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠিখেলা দেখতে ভিড় জমান দর্শকরা
বাদ্য-বাজনার তালে তালে লাঠি নিয়ে একজন আরেকজনকে আঘাত করার চেষ্টা করছেন। লাঠির আঘাত থেকে বাঁচতে চলছে পাল্টা আক্রমণ। না, কোনো ঝগড়া-বিবাদ নয়। এ দৃশ্য দেখা যায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলায়।
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গোপালপুর খাদুলী গ্রামবাসী এই লাঠিখেলার আয়োজন করে। আর এই আয়োজন নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না স্থানীয়দের। সবার মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ।
সরেজমিন দেখা যায়, সোমবার (৬ জুন) দুপুরের পর থেকেই লাঠিখেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার শব্দে চারপাশে সৃষ্টি হয় উৎসব মুখর পরিবেশের। প্রথমে বাদ্যের তালে তালে নানা কসরত দেখান লাঠিয়ালরা। এরপরই শুরু হয় মূল আকর্ষণ। এসব দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন দর্শকরা।
আল আমিন নামে এক দর্শক বলেন, অনেকদিন পর লাঠিখেলা দেখছি। খুব ভালো লাগছে। মুরুব্বিরা খেলছেন, দেখতে খুব ভালো লাগছে। প্রতিবছর যদি এভাবে খেলা হয় তাহলে আমরা দেখতে পারি।
আরেক দর্শক লায়লা খাতুন বলেন, আমি লাঠিখেলার কথা শুনেছিলাম। আজ প্রথম দেখলাম। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য যে কত সুন্দর তা না দেখলে বোঝানো যাবে না। লাঠিখেলা খুবই ভালো লাগছে।
লাঠি খেলোয়াড়রা জানান, তারা বিভিন্ন জায়গায় লাঠি খেলার প্রদর্শনী করে থাকেন। এ খেলার মাধ্যমে লোকদের যেমন আনন্দ দেন তেমনি নিজেরাও আনন্দ পান।
লাঠিখেলাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারি সহায়তার দাবি জানান তারা। এতে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।
আয়োজক কমিটির সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, দীর্ঘদিন করোনার কারণে সবকিছুই বন্ধ ছিল। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের কিছুটা বিনোদন আর হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী লাঠিখেলা প্রতিযোগিতা শেষ হয় সোমবার সন্ধ্যায়। খেলায় বিভিন্ন এলাকার আটটি দল অংশ নেয়। খেলা উপলক্ষে খাদুলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মেলা বসেছিল।
এমআরআর/এএসএম