সুপেয় পানির অভাবে ভোগান্তিতে মোংলা পৌরসভার ২ লাখ বাসিন্দা
মোংলা পৌরবাসীর জন্য পানি সরবরাহের পুকুর শুকিয়ে গেছে
বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভার দুটি সুপেয় পানির পুকুর শুকিয়ে গেছে। এতে তীব্র পানি সংকটে পড়েছেন লবণ অধ্যুষিত পৌর এলাকার দুই লাখ বাসিন্দা। চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা।
জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে মোংলা পোর্ট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে আজও পৌরবাসীর বিশুদ্ধ পানির সংকটের সুরাহা হয়নি। সংকট সমাধানে ২০০৮ সালে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর শহরের মাছমারা এলাকায় পুকুর খনন করে পানি সরবরাহ করা হয়। তাতেও চাহিদা না মেটায় পুনরায় ২০১৬ সালে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি পুকুর খননসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হয়। মোট ৮৩ একর জায়গার ওপর দুটি পুকুর খনন, দুটি ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়।
এ পুকুর দুটিতে বৃষ্টি ও নদীর পানি সংরক্ষণ করে তা বিশুদ্ধ করে পৌরবাসীদের সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহ করা সেই পানি চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এছাড়া অনাবৃষ্টির কারণে পুকুর দুটি শুকিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বিপাকে পড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে পৌর শহরের বাসিন্দাদেরও ভোগান্তি বেড়েছে। মূলত অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি পৌর কর্তৃপক্ষের।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভার একমাত্র সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্প ছাড়া শহরের অন্য কোথাও কোনো মিষ্টি পানির পুকুর কিংবা বিকল্প উৎস নেই। পৌর কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা পানি থেকে চাহিদা মেটে না। তার মধ্যে পুকুর শুকিয়ে সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

শহরের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেল বলেন, পানি হচ্ছে মানুষের জীবন। সবসময়ই পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু পৌরসভা ঠিকমতো পানি সরবরাহ করছে না। কারও কাছে অভিযোগ করার জায়গা নেই। পানির কষ্টে জীবনযাপন করছে পৌরবাসী।

শহরের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জোহরা বেগম বলেন, পানির খুব কষ্ট। যারা বাসা-বাড়িতে ভাড়া থাকে তারা অনেকেই পৌরসভার সাপ্লাই পানির ওপর নির্ভরশীল। এই পানিতেই তাদের গোসল, রান্নাবান্না চলে কিন্তু পৌরসভা ঠিকমতো পানি দিচ্ছে না। যে কারণে পানির সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যা সমাধানে যেন কেউ নেই।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহিদ বলেন, পৌরসভার প্রায় দুই লাখ মানুষের প্রতিদিন ৬০ লাখ লিটার সুপেয় পানির চাহিদা থাকলেও ৩০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পুকুরের গভীরতা কম থাকায় পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ৩০ লাখ লিটার পানির ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুকুর শুকিয়ে গেছে। নদীর পানিও তো লবণ। সেটিও পুকুরে ঢোকানো যাচ্ছে না। এখন একমাত্র ভরসা বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। তা না হলে কোনো উপায় থাকবে না।
এমআরআর/জেআইএম