কুড়িগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: ৬ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড
কুড়িগ্রামের ধর্মান্তরিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ছয় জেএমবি সদস্যকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া বিস্ফোরক মামলায় তিন জেএমবি সদস্যকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জজ মো. আব্দুল মান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস এম আব্রাহাম লিংকন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবি সদস্যরা হলেন- রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী, জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী, গোলাম রব্বানী, হাসান ফিরোজ ওরফে মোখলেছ, মাহাবুব হাসান মিলন ওরফে হাসান এবং আবু নাসের ওরফে রুবেল। তাদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী পলাতক। বাকি পাঁচ আসামির উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। পলাতক রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর থেকে সাজা কার্যকরের আদেশ দেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ১০ জেএমবি সদস্যকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু চার্জশিট দাখিলের আগেই পুলিশের গুলিতে তিন আসামি এবং চার্জশিট দাখিলের পর আরও এক আসামি নিহত হলে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে এবং জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী, মো. রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী এবং গোলাম রব্বানী নামে তিন আসামির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
উভয় মামলার আসামিদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী পলাতক। অপর পাঁচ আসামি বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়ে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে বন্দি আছেন। তাদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, রায় ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীর একমাত্র ছেলে ও মামলার বাদী রুহুল আমিন আজাদ। তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েকবছর পর হলেও মামলার রায় ঘোষণায় আমরা খুশি। আমরা চাই দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক।
পিপি এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপপ্রয়াসে এই খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটি কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়। একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ খুন করা হয়েছে। আসামিরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেটা স্বীকারও করেছে। এই রায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় দণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবি সদস্যদের কারাগারে পাঠানো হয়।
২০১৬ সালের ২২ মার্চ কুড়িগ্রাম শহরের কৃষ্ণপুর গাড়িয়াল পাড়ার কাছে গড়ের পার এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বের হন ওই এলাকার বাসিন্দা ধর্মান্তরিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী। সকাল পৌনে ৭টার দিকে ওই এলাকার আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশে পাকা রাস্তার ওপর হোসেন আলীকে কুপিয়ে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। স্থানীয় কয়েকজন তাদের আটকের চেষ্টা করলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হত্যাকারীরা। ওইদিনই অজ্ঞাতদের আসামি করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মামলা করেন নিহতের একমাত্র ছেলে রুহুল আমিন আজাদ।
মাসুদ রানা/এমআরআর/জেআইএম
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ বিকাশের এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, চিনে ফেলায় শরীরে আগুন
- ২ দাঁড়িপাল্লায় ভোট চেয়ে মিছিল, জানেন না জামায়াতের প্রার্থী
- ৩ দিপু হত্যায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এরশাদ, মোবাইল উদ্ধার
- ৪ সিরাজগঞ্জে নবজাতক শিশুকে গলা কেটে হত্যা, আত্মগোপনে মা
- ৫ এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ভৈরবে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা