ঈদে ফরিদপুরের ১৩ বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের ঢল
প্রিয়জন ও স্বজনদের নিয়ে বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরতে আসেন মানুষ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফরিদপুরের ১৩টি বিনোদনকেন্দ্রে হাজারো মানুষের ঢল নামে। ছোট থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ এসব কেন্দ্রে ঈদের দিন বিকেল থেকে ঘুরতে আসেন। কর্মব্যস্ততা কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর প্রিয়জন ও স্বজনদের সঙ্গে বেরিয়েছেন তারা। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন দর্শনার্থী আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন বিনোদনকেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সাতৈর-মহম্মদপুর রোডের এলানখালীতে শেখ হাসিনা সেতু, বোয়ালমারী-ময়েনদিয়া সড়ক এলাকার সেলফি রোড, গাঁও-গ্রাম ভিলেজ পার্ক, বিলচাপাদহ, ভাঙ্গা গোল চত্বর, রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ, আলফাডাঙ্গা উপজেলার দিকনগর খেয়া ঘাট, টিটা ভাসমান সেতু, কপি হাউজ, চরভদ্রাসনের হাজিগঞ্জ বাজারের নদীর পাড়। মধুখালীর কামারখালী এলাকার গড়াই সেতু ও চরবাসপুর বঙ্গবন্ধু মুজীব শতবর্ষ পার্ক। ঈদ উপলক্ষে এসব কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে ঈদের বিকেলে।
ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা মো. দাউদুজ্জামান দাউদ পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন ধলার মোড়ে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ধলার মোড় মনোমুগ্ধকর একটি স্পট। জায়গাটির আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছেই। এখানে বেশ কিছু দোকান, একটা শিশু পার্ক এবং ভাসমান হোটেল গড়ে উঠেছে। তাতেও লোকজনের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নৌকা ও স্পিডবোটে ঘুরার ব্যবস্থা আছে। ঈদের দিনে যথেষ্ট লোক সমাগম হতে দেখা যায়। ভিড় আরও বাড়বে।’

এ ব্যাপারে সাদীপুরের বাসিন্দা ও দর্শনার্থী মো. ইমরান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফরিদপুরে আনন্দ বিনোদন বলতে ধলার মোড় অন্যতম। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বেশ ভালো লাগছে। আমি শুধু ঈদ দিন নয় অন্য সময়ও ধলার মোড়কে বেছে নেই।’

নুরুল আমীন বাপ্পি বলেন, ‘ধলার মোড়ে মাথার ওপরে খোলা আকাশ এবং নদীর এক চমৎকার আকর্ষণ যে কোনো লোককেই মুগ্ধ করে। এছাড়া এখানকার পরিবেশটা ভালো এবং কোনোরকম কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটার কারণে সন্ধ্যার পরও অনেক লোককেই এখানে ঘুরতে দেখা যায়। সবকিছু মিলে ফরিদপুরে বিনোদনের সবচেয়ে বড় অবদান এ ধলার মোড়।’

ভাঙ্গা গোল চত্বরে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ব্যাংক অফিসার মো. হারুন অর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছুটি ও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে চলে এলাম ঘুরতে।’

ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এলান খালীর ঘাটে শেখ হাসিনা সেতুতে ঘুরতে আসা সাদিয়া বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যস্ততা শেষে পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বেশ ভালো লাগছে। অনেক মজা হলো।’

ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা টোকন ও রুমানা ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঘুরাঘুরি ও আনন্দ উৎসব করলাম। বেশ ভালো লেগেছে। ভালো সময় কাটালাম।’

মধুখালীর কোড়কদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চরবাসপুর মুজিব শতবর্ষ পার্কের প্রধান উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুকুল হোসেন রিক্ত জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ পার্কে আছে প্যাডেল বোট, স্পিডবোট, ক্যাবল কার, ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, ট্রেনসহ আরও অনেক রকম রাইড। আছে ফাস্টফুড, ট্র্যাডিশনাল ফুড, ফুচকা, চটপটি সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। ঈদ উপলক্ষে মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়।’
এন কে বি নয়ন/এসজে/জেআইএম