ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মৃদু তাপপ্রবাহে দিনাজপুরে ডাবের দামে উত্তাপ

জেলা প্রতিনিধি | দিনাজপুর | প্রকাশিত: ০৯:১৬ পিএম, ১২ জুলাই ২০২২

বৃষ্টির দেখা নেই, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ দিনাজপুরবাসী। প্রায় ১৫ দিন ধরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এই তাপপ্রবাহ বিদ্যমান থাকবে আরও কমপক্ষে তিনদিন।

এদিকে কাঠফাটা রোদে দিনাজপুরে বেড়েছে ডাবের দাম। একজোড়া ডাব বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে বিকেল ৩টায় তা বেড়ে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল গত রোববার ৩৬ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার ছিল ৩৪ দশমিক ০৫, শনিবার ৩৫ দশমিক ০৬, শুক্রবার ৩৫ দশমিক ০৭ ও বৃহস্পতিবার ৩৬ দশমিক ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা ওটা নামা করেছে।

এদিকে, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে সদর হাসপাতাল মোড়ে ডাব কিনতে এসেছিলেন দিনাজপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সানোয়ার হোসেন সরকার। তিনি বলেন, যে কয়টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ যাচ্ছে তার মধ্যে দিনাজপুর একটি। আমি নিজেও গরমে অস্থির, আমাকেও ডাব খেতে আসতে হয়েছে।

jagonews24

তিনি বলেন, ডাবের দাম অনেক চড়া, ডাবের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে ভালো হতো। এই গরমে একটু স্বস্তি পেতে ও পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণের জন্য ডাবের পানি খেতে এসেছি।

উপশহর থেকে ডাব কিনতে আসা জিয়াউর রহমান বলেন, অনেক গরম তাই ডাব কিনতে এসেছি। কিন্তু ডাবের দাম অনেক বেশি। ঈদের আগে যে ডাব ৭০ থেকে ৮০ টাকায় কিনেছি, সেই ডাব এখন প্রতি পিস ১৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

হাসপাতাল মোড়ের ডাব বিক্রেতা শাহাজাহান আলী বলেন, দিনাজপুরে গরম বেড়েছে। ঈদের কারণে ডাবের সরবরাহ কম। তাই দামও অনেক বেশি। ঈদের দিন ৫০০ টাকা জোড়া বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৩০০ টাকা জোড়া বিক্রি হচ্ছে। আমরা বেশি দামে কিনেছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি।

১০নং কমলপুর ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, কয়েকদিন থেকে যে রোদ বাইরে থাকা যায় না। বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চারা লাগানো শুরু হয়নি। এখনো সময় আছে। দেখা যাক কী হয়।

jagonews24

বিরল উপজেলার তেঘরা গ্রামের মকবুল হোসেন বলেন, ১৫ দিন ধরে দিনাজপুরে কোনো বৃষ্টি হয়নি। গরম বাড়ছে। বিদ্যুৎও ঠিমকতো থাকে না, কী যে কষ্ট। বৃষ্টি না হলে ধান রোপণ করবো কীভাবে?

সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের দবিরুল ইসলাম বলেন, যে রোদ, মাঠে কাজ করতে গেলে মাথা ঘোরে। বৃষ্টির অভাবে আমনের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলেই মানুষ জমিতে আমন রোপণ শুরু করবে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এই মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে একটি মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। আজ দিনাজপুরে কোথাও বৃষ্টি হয়নি। আগামী ১৫ বা ১৬ জুলাই দিনাজপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টি শুরু হবে পঞ্চগড় থেকে। ধীরে ধীরে দিনাজপুর জেলার দিকে আসবে। আকাশে মেঘের বলয় দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা দিন দিন কমবে।

এমদাদুল হক মিলন/এমআরআর/এএসএম