যশোরে মাদক মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন
ফাইল ছবি
যশোরে পৃথক দুই মাদক মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই রায়ে খালাস পেয়েছেন আরেক আসামি।
সোমবার (২৫ জুলাই) স্পেশাল জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
স্পেশাল পিপি সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা ও এপিপি খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শার্শা উপজেলার আমড়াখালী গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে নজরুল ইসলাম ও একই উপজেলার সরদার বারীপোতা গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে শামীম হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩১ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার পতেঙ্গালী গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে যান। এ সময় ওই গ্রামের কাবিল হোসেনের বাড়ির সামনে থেকে ঝিকরগাছার ছুটিপুরের দিক থেকে আসা একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-গ-১১-১৮০৩) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়ি থেকে এক হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারসহ নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এসআই কামরুজ্জামান কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
একই বছরের ৩১ আগস্ট নজরুল ইসলাম ছাড়াও তার সহযোগী বেনাপোলের দিঘিরপাড় গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে বাবুল হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যশোরের বিশেষ দায়রা জজ ও স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ সামছুল হক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
রায়ে অপর আসামি বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাভারণ-বাড়আঁচড়া সড়কের ভুট্টো মিয়ার হোটেলের সামনে অভিযান চালান এসআই ইমরুল হোসাইন। এ সময় ৬০০ গ্রাম হেরোইনসহ শামীম হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।
শার্শা থানার এসআই কানু চন্দ্র বিশ্বাস তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত) ফাহমিদা জাহাঙ্গীর আসামি শামীমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মিলন রহমান/এসআর/এএসএম