১২ পিলারেই ৪ বছর আটকে আছে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ!
উপরে রডগুলোতে মরিচা পড়েছে
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রোকনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ চার বছর ধরে বন্ধ করে রেখেছে ঠিকাদার। ১২টি পিলারেই (শর্ট কলাম) আটকে আছে নির্মাণ কাজ।
এদিকে বিদ্যালয়ের পুরোনো দোতলা একটি ভবন ও একটি টিনসেড শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার নির্মাণ সামগ্রী রেখে টিনসেড শ্রেণিকক্ষটিও দখল করে রেখেছে। ফলে কক্ষের অভাবে গাদাগাদি অবস্থায় পাঠদান করছে বিদ্যালয়ের ৫৫০ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জেলা শিক্ষা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়ের একটি একতলা ভবনের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তখন লটারির মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাফিজ অ্যান্ড সন্সের সত্ত্বাধিকারী আহছানুল করিম শিপন কাজটি পান। পরে শিপন কাজটি কমিশনে রোকনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের কাছে বিক্রি করে দেন। তিনি কয়েকদিন কাজ করে ১২টি শর্ট কলাম করেন। মাটির নিচে কলাম করলেও উপরে রডগুলো খোলা অবস্থায় থেকে মরিচা পড়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা একটি একতলা ভবনের বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু ঠিকাদার কাজ না করে চার বছর ধরে পালিয়ে রয়েছেন। উল্টো তিনি আমাদের টিনসেড কক্ষটিও দখল করে রেখেছেন। নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে একাধিকবার লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশলের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাফাজ্জল হোসেন পাটওয়ারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা তদবির করে ভবনটির অনুমোদন পেয়েছি। এখন কাজ বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ঠিকাদার কী কারণে কাজ বন্ধ রেখেছে তাও জানা নেই।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাফিজ অ্যান্ড সন্সের সত্ত্বাধিকারী আহছানুল করিম শিপন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ জানায়নি। দ্রুত কাজ শুরুর জন্য বলে দেওয়া হবে।’
মন্তব্য জানতে মো. ইব্রাহিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘আর্থিক সংকটের কারণে ঠিকাদার কাজটি বন্ধ রেখেছে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।’
কাজল কায়েস/এসজে/জেআইএম