প্ল্যাটফর্ম নয় যেন ফলের বাজার
বাজারে পরিণত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশনে ফলসহ নানান পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্টেশনে আসা যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্টেশনে দুটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। দুটি প্ল্যাটফর্মে ৩০টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়ে। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ২৯টি স্থায়ী দোকান। এছাড়া ফলের দোকান অর্ধশতাধিক। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি স্থায়ী দোকান ছাড়াও ১০-১৫টি ভাসমান দোকান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি রেস্তোরাঁ ও একটি মিষ্টির দোকান। এসব দোকানে প্রতি বর্গফুট ১২০ টাকা হারে বার্ষিক মূল্য পরিশোধের শর্তে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে হিসেবে প্ল্যাটফর্মে থাকা দোকানগুলোর মাসিক ভাড়া ২৫৬ থেকে সর্বোচ্চ ৭৬৮ টাকা ভাড়া ওঠে।
স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ফল বিক্রি করছেন জগনাথপুর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার মিয়া।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, কয়েক মাস হলো স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে দোকান নিয়ে বসেছি। তবে কাউকে কোনো ভাড়া দেই না। রেলওয়ে কর্মকর্তা ও হকার্স শ্রমিক নেতাদের কাছ থেকে মৌখিক অনুমোদন নিয়ে প্ল্যাটফর্মে দোকান বসিয়েছি।
আবদুল্লাহ মিয়া নামের এক হকার বলেন, রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হকার্স শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীর অনুমতি নিয়েই প্ল্যাটফর্মে দোকান বসিয়েছি। সেজন্য তাদের মাসিক ভাড়া দিতে হয়। রেলওয়ের বড় অফিসাররা অভিযান চালালে তখন দোকান তুলে নিয়ে যান তারা।
স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢাকাগামী যাত্রী মাহমুদুল হাসান বলেন, প্ল্যাটফর্মে এমন কোনো জায়গা বাকি নেই যে হকার বসেনি। পুরো দুটি প্ল্যাটফর্মে হকার বসে দোকানদারি করছে। ফলে ট্রেনে উঠতে গিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রেলওয়ে হকার্স শ্রমিক লীগ ভৈরব শাখার সভাপতি মতি মিয়া বলেন, দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য প্ল্যাটফর্মে কিছু হকার বসতে দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে দোকান বসিয়ে উপার্জন করে সংসার চালায়। তাদের কাছ থেকে ভৈরব হকার্স সমবায় সমিতির নামে কিছু টাকা ওঠানো হয়। সে টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার নুর নবী বলেন, প্ল্যাটফর্মে দোকান বসানোয় ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে প্ল্যাটফর্মে হকার ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।
আরএইচ/এএসএম