আশ্রয়ণের ঘরে জুয়ার আসর, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ
ঘরটি ফারুক শেখ নামের এক ব্যক্তি বরাদ্দ পেয়েছেন/ ছবি-জাগো নিউজ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন ফারুক শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি একজন সচ্ছল কৃষকের সন্তান বলে জানা গেছে। তাদের ২৫-৩০ বিঘা কৃষিজমি রয়েছে।
আশ্রয়ণের ওই ঘরটিতে জুয়ার আসর বসাসহ অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ প্রতিবেশীদের। এসব নিয়ে প্রতিবেশীদের মাঝে অস্বস্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরটি বরাদ্দ পেয়েছেন মো. ফারুক শেখ নামের এক ব্যক্তি। তার বাবা পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জিন্নাহ শেখ একজন প্রতিষ্ঠিত কৃষক। তিনি ২৫-৩০ বিঘা কৃষিজমির মালিক। তার একটি পাকা বাড়ি রয়েছে। এরকম একটি সচ্ছল পরিবারের সন্তান হয়েও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ঘরটি সারাদিন তালাবদ্ধ থাকে। সন্ধ্যায় ফারুক আসেন জুয়ার আসর বসাতে। প্রায়ই ঘরটিতে বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনা হয়। দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে তাস, জুয়া ও নেশার আড্ডা চলে।
সম্প্রতি এক রাতে ঘরটি থেকে এক নারীসহ ফারুক ও তার সহযোগীদের আটক করেন এলাকাবাসী। পরে ওই নারীকে তার অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও কৌশলে লাপাত্তা হয়ে যান ফারুক ও তার সহযোগীরা।
প্রতিবেশী রিনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের এ ইউনিটে মোট চারটি ঘর রয়েছে। এর একটিতে ফারুক ও অপর তিনটিতে আমিসহ অন্যরা বসবাস করছি। কিন্তু ফারুকের কারণে বর্তমানে আমাদের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনায় লজ্জাজনক পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয়। ঘরের ভেতর থেকে নেশাজাতীয় দ্রব্যের গন্ধ ভেসে আসে। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে থাকতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফারুক শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম মোল্লা ওই ঘর থেকে বহিরাগত নারী উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফারুকের কিছু ভুলত্রুটি আছে। এ নিয়ে আপনাদের কিছু করার দরকার নেই ভাই। নম্বর দিয়ে যান। ফারুককে যোগাযোগ করতে বলবানি।’
এ বিষয়ে ঘোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার এলাকা। কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে এলাকার কেউ ফারুককে ভালো বলে না। আপনারা আশপাশে খোঁজ নেন সব জানতে পারবেন।’
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছু অভিযোগের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভুমিকে (এসিল্যান্ড) তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বোয়ালমারী এসিল্যান্ড মারিয়া হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এসব বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। স্থানীয় ইউনিয়নের তহশিলদারকে তিনদিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় তহশিলদার হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম