নারায়ণগঞ্জে রডের দামে অস্থিরতা, ব্যবসা সামলাতে হিমশিম
আবারো বাড়লো রডের দাম
কয়েক দফায় ডলারের মান বাড়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে রডের বাজারে অস্থিরতা চলে আসছিল। নতুন করে যোগ হয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। এর প্রভাবে সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে রডের দাম বেড়েছে টন প্রতি ৩-৪ হাজার টাকা। আবার কোনো কোনো রডের দাম টন প্রতি ৭ হাজার টাকাও বেড়েছে।
শনিবার (১৩ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকার রডের বাজার ঘুরে এমনটা জানা যায়। রডের দামে অস্থিরতা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফলে অনেকে রড বিক্রি ছেড়ে অন্য ব্যবসায় জড়াচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্র্যান্ড ও লোকাল সব রডেরই দাম বেড়েছে। তবে অন্যসময় দুই রডের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকলেও এবার দাম কাছাকাছি রয়েছে। একেএস রডের দাম টন প্রতি ৪ হাজার, বিএস রড ৬ হাজার, আরএম রড ৭ হাজার, পিএইচপি রড ৪ হাজার, ডিএসআরএম রড ৩ হাজার টাকা করে বেড়েছে।
একই সঙ্গে বাজারে রয়েছে রডের সংকটও। ব্যবসায়ীরা মালামাল কিনতে গিয়ে পাচ্ছেন না। তাদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাল দেওয়া থেকে বিরত থাকছে কোম্পানিগুলো। ফলে সময় মতো অর্ডার সাপ্লাই দিতে পারছে না।
শহরের চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকার প্রভা আইরন স্টোরের মালিক মোহাম্মদ আলী মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‘লোকাল রড টন প্রতি ৪ হাজার টাকা করে বেড়েছে। আর ব্র্যান্ডের রড ৩ হাজার টাকা করে বেড়েছে। তবে এ বাজার স্থিতিশীল নয়। যেমন আজ ছুটির দিন। রডের দাম বেড়েছে টন প্রতি ৫০০ টাকা করে। এভাবে কোনো কোম্পানির রডের দামই স্থিতিশীল নেই। একই সঙ্গে রড পরিবহনে টন প্রতি ২৫০ টাকা করে খরচ বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় রড কিনতে গিয়েও পাই না। কোম্পানির মালিকরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলে। মাল সংকট, ক্রাইসিস ডলারের দাম বাড়ছে এলসি করতে পারছি না এমন নানা কথা শুনতে হয়। যার কারণে আমরা সময় মতো অর্ডার সাপ্লাই দিতে পারছি না। এমনিতেই এখন অর্ডারের সংখ্যা কমে গেছে। মানুষের কাছে টাকা কমে গেছে। টাকা থাকলে তো মানুষ কাজ করবে। কিছু অর্ডার পেলেও সেটা সময় মতো সাপ্লাই দিতে না পারার কারণে ছুটে যাচ্ছে।’

মেসার্স সরদার আয়রনের প্রোপাইটর মো. আমজাদ হোসেন সরদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে যে রড ৮২ হাজার টাকায় কিনেছি সেটা এখন বেড়ে ৯০ হাজার টাকা হয়েছে। ডিএস আরএম রড ছিল আগে ৭৮ হাজার টাকা। এখন সেটা বেড়ে ৯৩ হাজার টাকা হয়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে কোম্পানিরা বলতো ডলারের দাম বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এখন বলছে তাদের পোর্টের খরচ বেড়েছে। এভাবে প্রত্যেক রডের দামই বাড়ছে।’
কাজী অ্যান্ড সন্সের মালিক কাজী জহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রত্যেক রডের দাম টন প্রতি গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে বেড়েছে। এমন কোনো কোম্পানির রড নেই যেটার দাম বাড়েনি। আমরা রড ব্যবসায়ীরা আসলে এখন আর ভালো নেই। নানারকম ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। ব্যবসা করতে হলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। ঋণ নিলে আবার মুনাফাসহ শোধ করতে হয়। কিন্তু যদি বেচাকেনা না থাকে তাহলে ঋণ শোধ করবো কীভাবে?
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখান থেকেই অনেক রড ব্যবসায়ী ব্যবসা ছেড়ে চলে গেছে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের জন্য মার্কেটে বাকি দিতে গিয়ে তার ব্যবসা শেষ হয়ে গেছে। আমরা কোনোরকম টিকে আছি।’
নারায়ণগঞ্জ লোহা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মনির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নানা কারণেই লোহা ব্যবসায়ীরা এখন ভালো নেই। ডলারের দাম ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে লোহা রড ব্যবসায়ীরা বিপাকে রয়েছি। না পারছি ব্যবসা ছাড়তে আবার না পারছি ব্যবসা ধরে রাখতে। অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে আমাদের দিন পার হচ্ছে।’
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসজে/জিকেএস