ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘রিলিফ-সিলিপ চাই না, বাঁধ চাই’

জেলা প্রতিনিধি | লালমনিরহাট | প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ২০ আগস্ট ২০২২

হামরা (আমরা) ৫-১০ কেজি চাল চাই না, নদীর বাধোন (বাঁধ) চাই। এবার ভায় (সহ) হামার (আমার) আটবার ঘরবাড়ি ভেঙে গেল। রিলিফ-সিলিপ চাই না। নদীর বাধোন (বাঁধ) হলে হামরা (আমরা) রক্ষা পাই। এভাবে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চোংগাডারা গ্রামের খালেদা বেগম (৪৫)।

স্থানীয়রা জানান, এ বছর লালমনিহাটের পাঁচ উপজেলার নয় পয়েন্টে কয়েক দফায় তিস্তা নদীর ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি, মসজিদ-মাদরাসা, ফসলি জমি, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত ১৫ দিনে তিস্তার ভাঙনে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অন্তত হাজারো পরিবার। বিভিন্ন বাঁধের রাস্তায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিস্তার পানি কমা-বাড়ার ফলে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, দিঘলটারি, কালমাটি, চোংগাডারা, গোকুন্ডা, মোগলহাট; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা; হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, গড্ডিমারী ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামসহ জেলার অন্তত ৯ পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে চোংগাডারা উচ্চ বিদ্যালয়, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, খুনিয়াগাছ উচ্চ বিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠান।

‘রিলিফ-সিলিপ চাই না, বাঁধ চাই’

নদী ভাঙনের শিকার ফজর আলী জানান, এখন পর্যন্ত আটবার নদীতে ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। এবার আর কেউ আমাকে জায়গা দেয় না। তাই সবাই মিল রাস্তায় থাকি।

তিস্তাপাড়ের চোংগাডারা গ্রামের শেফালি বেগম বলন, স্বামী ঘরে পঙ্গু হয়ে পড়ে আছে। বাড়িঘরের জিনিসপত্র ভেসে গেছে। আমরা কিছু চাই না। নদীর বাঁধ হলে আরও দশজন বাঁচবে।

‘রিলিফ-সিলিপ চাই না, বাঁধ চাই’

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, দেড় মাস থেকে তিস্তার ভাঙন শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হচ্ছে।

‘রিলিফ-সিলিপ চাই না, বাঁধ চাই’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু জাফর জাগো নিউজকে জানান, নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীন পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

রবিউল হাসান/আরএইচ/জেআইএম