প্রধান শিক্ষককে মারধর: নৈশপ্রহরীর ৩ মাসের কারাদণ্ড
নৈশপ্রহরী জহির উদ্দিন সুমন
প্রধান শিক্ষককে মারধরসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফেনীর সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন কাম নৈশপ্রহরী জহির উদ্দিন সুমনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (২১ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, নৈশপ্রহরী জহির উদ্দিন সুমন নিয়ম শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ইভটিজিংসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি তার সব অপকর্মের বিরুদ্ধে বারবার সতর্ক করার পরেও তিনি কর্ণপাত না করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
মামলার বাদী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইন আহমদ বলেন, জহির উদ্দিন সুমন এই বিদ্যালয়ের পিয়ন কাম নৈশপ্রহরী। তাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের পর থেকে সে স্কুলের নিয়মকানুন অমান্য করে তার ইচ্ছামতো চলাফেরা করতো। সে স্কুলের অন্য শিক্ষকসহ আমার কোনো আদেশ পালন না করে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আসছিল। তার এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তাকে একাধিক বার সতর্ক করা হয়। এতে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় আমার সঙ্গে বাজে আচরণ করে। এ বিষয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটিসহ স্কুলের সঙ্গে জড়িতদের জানানো হয়।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ সকাল ৯টায় সুমন ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে স্কুলের রুমসহ আশপাশ এলাকা পরিষ্কার করাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া মাত্র সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। আমার জামার কলার ধরে কণ্ঠনালি চেপে হত্যার উদ্দেশে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারে। এতে আমি বুকে ও পাঁজরে মারাত্মক আঘাত পাই। আমার চিৎকারে স্কুলের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।
পরে এ ঘটনায় ওই প্রধান শিক্ষক সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আজ ফেনীর সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে এই সাজা দেন।
ফেনীর জ্যেষ্ঠ সহকারী সরকারি কৌঁসুলি দিজেন্দ্র কুমার কংশ বণিক রায়ের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি জহির উদ্দিন সুমন উপস্থিত ছিলেন।
এমআরআর/জিকেএস