শোক দিবসের আলোচনায় ‘অতিথি না করায়’ আওয়ামী লীগ নেতাকে কিল-ঘুষি
ফরিদপুরে শােক দিবসের আলােচনা সভায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করার অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা শামসুল হক ভােলার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নে মাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শােকসভার আয়ােজন চলছিল স্থানীয় মাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল নির্মাণে বাধা দেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মাে. শামসুল হক ভােলা। সভায় তাকে অতিথি না করায় তিনি বাধা দেন বলে অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাে. নজরুল ইসলাম তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন শামসুল হক ভােলা। পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক শামসুল হক ভােলা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই স্কুলের সভাপতি আমি। আমি জেলা পরিষদের প্রশাসক। আমি আওয়ামী লীগ করি, আমার বাড়ি এখানে। এই স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগ অনুষ্ঠান করবে আর আমাকে জানাবে না?’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক জুনিয়রদের এই অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়েছে অথচ আমাকে জানানো হয়নি। তাই স্কুল কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা করলে কম্পাউন্ডের বাইরের মাঠে বা অন্য কােথাও করবে।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৫ আগস্ট শহীদ জাতির জনকসহ অন্যদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দােয়া ও আলােচনা সভা আয়ােজনের জন্য প্যান্ডেল করছিলাম। সেখানে ভােলা সাহেব এসে বাধা দেন। আমি তার কাছে গিয়েছিলাম বিষয়টা কী, কেন বাধা দিচ্ছে ন জানতে। আমি আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে কিল, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন।’
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানাে হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবাে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম