অতিরিক্ত লোডশেডিং: লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীকে নোটিশ
লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এস এম ইলিয়াস হাওলাদার এ নোটিশ করেন। নোটিশটি তিনি ডাকযোগে রেজিস্ট্রি করে লক্ষ্মীপুর পিডিবি নির্বাহী প্রকৌশলীর ঠিকানায় পাঠিয়েছেন।
আইনজীবী ইলিয়াস হাওলাদার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, এলাকাভিত্তিক দৈনিক এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হয়। পৌরসভার ১৫ ওয়ার্ডে প্রায় ১ লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে অধিকাংশই বৃদ্ধ ও শিশু। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে তারা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পৌরশহরে সদর হাসপাতালসহ অন্তত ১০টির বেশি হাসপাতাল রয়েছে। সরকারি সব গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো পৌর এলাকায়। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে সব কাজে ব্যাঘাত ঘটে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রজ্ঞাপনের কোনো শর্ত পালন না করে বেআইনিভাবে লক্ষ্মীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী অতিরিক্ত লোডশেডিং দিয়ে আসছেন। তিনি সরকারি আইনের বরখেলাপ করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছেন তিনি।
তাই দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপন পালনে নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ করা হয়েছে নোটিশে। তা না করা হলে তার বিরুদ্ধে সরকারি প্রজ্ঞাপন অগ্রাহ্য করায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন এই আইনজীবী।
ইলিয়াস হাওলাদার বলেন, সরকার এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বিভাগীয়ভাবে সেরা হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করাচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে ভাবছেন না।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাড়িতে গেলে দিনে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং দেখেছি। এতে বাসাবাড়িতে বৃদ্ধ ও শিশুরা গরমে অসুস্থ পড়ে। অনেকের ঘরের ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের সরকারি ওয়েবসাইটটি সর্বশেষ ২০১৮ সালে হালনাগাদ করা হয়। লোডশেডিং নিয়ে তারা কোনো তালিকাও দেয়নি। এজন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন পালন করে এলাকাভিত্তিক দৈনিক এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিগ্যাল নোটিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন মাহমুদ শামীম ফরহাদ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। এজন্য লোডশেডিং হচ্ছে। লিগ্যাল নোটিশের বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি।
কাজল কায়েস/এমআরআর/এমএস