রামুতে কিশোর, মহেশখালীতে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা
ফাইল ছবি
কক্সবাজারে পৃথক ঘটনায় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন কিশোর ও অপরজন পশু চিকিৎসক। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) রামু ও মহেশখালীতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রামুর খুনিয়াপালং বড়ডেপা এলাকায় মোহাম্মদ জুয়েল (১৬) নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জুয়েল খুনিয়াপালং ইউনিয়নের বড়ডেপা হেডম্যান পাড়ার মনিরুজ্জামানের ছেলে।
জুয়েল বড়ডেপা এলাকায় মো. রশিদ নামে একজনের মালিকানাধীন শিকদার পোল্ট্রি ফার্মের কর্মচারী। ওই খামারে বকেয়া টাকা চাওয়ায় জুয়েলকে মারধর করা হয়। এতে জুয়েলের মৃত্যু হলে মরদেহ খামারের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
রামু থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারীসহ তিনজনকে পুলিশের হেফাজতে আনা হয়েছে।
অপরদিকে মহেশখালীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুস শুক্কুর (৬২) নামের এক পশু চিকিৎসককে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনিয়নের ডেইল্যা ঘোনা গ্রামের ছরারলামা নামক স্থানে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুস শুকুর হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলাপাড়া গ্রামের মৃত বদিউর রহমানের ছেলে।
নিহতের ছেলে নুরুল আবছার জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আমার বাবার সঙ্গে ডেইল্যা ঘোনা গ্রামের মৃত উম্মত আলীর ছেলে জাফর আলম, এলাহী শরীফের ছেলে মোরশেদ আলম ও একই এলাকার জয়নাল ডাকাতসহ বেশ কয়েকজনের বিরোধ চলে আসছিল। আমার বাবা সাড়ে ছয় কানি জমির বিরোধ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের কাছে সালিশ বিচার ও আদালতের মামলায় রায় পেলেও বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন সশস্ত্রভাবে দলবল নিয়ে বিরোধীয় জায়গায় পান বরজের চালা তৈরি করে। সকালে আমার বাবা তাদের বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের ১৫-১৬ জন নারী-পুরুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরে মারাত্মক আহত বাবাকে এলাকার লোকজন উদ্ধার করে মহেশখালী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
সায়ীদ আলমগীর/আরএইচ/এএসএম