ভৈরবে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
আগানগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৬০ টাকা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের ৯ সদস্য। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দিতে চেয়ে তিন দরিদ্রের কাছ থেকে তিনি ৮৭ হাজার টাকা ঘুস নিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) অভিযোগটি ইউপি সদস্যরা কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দাখিল করেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক অফিস অভিযোগের কপি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
অভিযোগের কপিতে দেখা যায়, গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেওয়ার কথা বলে ওই ইউপি চেয়ারম্যান তার এলাকার রহম আলীর কাছ থেকে ১২ হাজার, সোহাগ মিয়ার কাছ থেকে ৪৫ হাজার ও আলাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুস নিয়েও তাদের ঘর দিতে পারেননি। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন- রাস্তার মাটি ভরাট না করে টাকা আত্মসাৎ, দরিদ্রদের সেলাই মেশিন বিতরণ না করে টাকা আত্মসাৎ, ভিজিএফ ও জিআর চাল গোপনে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ, ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতা তাদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এসব প্রকল্প মিলিয়ে মোট ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৬০ টাকা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। সব মিলিয়ে তিনি ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৬০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির আমাদের প্রকল্পের বিষয়গুলো জানাননি। আমরা জানতে পারি কয়েকটি প্রকল্পের কাজ না করেই তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এমনকী আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নাম করে তিনজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘর দিতে পারেননি। এখনো তাদের টাকা ফেরত দেননি চেয়ারম্যান।
তবে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ইউপি সদস্যদের সব অভিযোগ মিথ্যা। সব প্রকল্পে আমি কাজ করেছি যা তদন্ত করলে প্রমাণ মিলবে। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথা বলে কারও কাছ থেকে নিইনি। ইউপি সদস্যরা আমার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ করেছে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্যদের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে চেয়ারম্যানের ঘর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এগুলো আমি সরাসরি তদারকি করে কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসহায় গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করি। চেয়ারম্যান যদি কারও কাছ থেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয় সেটার জবাব তিনি দেবেন।
রাজীবুল হাসান/এমআরআর/জিকেএস