ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রাজবাড়ী

টেলিফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকরা

জেলা প্রতিনিধি | রাজবাড়ী | প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২২

বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সুযোগ-সুবিধার কারণে দিন দিন টেলিফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন রাজবাড়ীর গ্রাহকরা। গত তিন বছরে ৫৮ জন গ্রাহক বাড়লেও কমেছে ১১০’রও বেশি। বর্তমানে মোবাইল কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবিসহ অন্যান্য অপারেটরের কলরেট হিসেবে টেলিফোনের কলরেট অনেক সাশ্রয়ী। দেশের মধ্যে টেলিফোন টু টেলিফোন আউট গোয়িং ও ইনকামিং একবারে ফ্রি। টেলিফোন টু মোবাইল অপারেটরে মাত্র ৫২ পয়সা কলরেট সুবিধা রয়েছে।

এদিকে বর্তমানে ডিজিটাল যন্ত্রাংশের মাধ্যমে টেলিকম সুবিধার পাশাপাশি এডিএস, এলএলআই (লিজ লাইন) ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিজিটাল সেবা চালু হওয়ায় পড়ে আছে আগের ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ।

আরও পড়ুন: জেলায় খোলা থাকলেও উপজেলা অফিসে ঝোলে তালা

অন্যদিকে রাজবাড়ীতে টেলিফোন গ্রাহকের চাপ না থাকলেও রয়েছে ইন্টারনেট সেবার চাপ। ফলে লাইন বসানো, মেরামত, সংরক্ষণ ও সঞ্চালন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে অপটিক্যাল ফাইবার ইন্টারনেট সংযোগের তার জয়েন্টের সাপ্লাইসি মেশিন ও তারের ত্রুটি নির্ণয়ের ওটিডিআর মেশিন সংকটে জেলায় ব্যাহত হচ্ছে ইন্টারনেট সেবা।

Raj-4

টেলিফোন টাওয়ার-ছবি জাগো নিউজ

রাজবাড়ী বিটিসিএল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজবাড়ীতে টেলিফোন গ্রাহক সংখ্যা ৯৭৬। ২০২০ সালে গ্রাহক ছিল ১ হাজার ৮৮, ২০২১ সালে ১ হাজার ৪২ এবং চলতি বছর (২০২২) গ্রাহক সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯৭৬ তে। বর্তমানে সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি-ভিডিও মোবাইল ফোনে না রাখাই ভালো

অফিসে রয়েছে সহকারী ব্যবস্থাপক একজন, জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক একজন, কম্পিউটার অপারেটর একজন, এসআরটিএ (সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট) দুজন, টিএ (টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট) একজন, জয়েন্টার একজন, লাইনম্যান একজন, জুনিয়র লাইনম্যান চারজন, ওয়ারম্যান একজন, ম্যাসেঞ্জার দুজন ও গার্ড একজন।

Raj-4

টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের ভেতরের যন্ত্রাংশ-ছবি জাগো নিউজ

শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী আছিফ মাহমুদ বলেন, আসলে ল্যান্ডফোন তথ্য আদান-প্রদানের পাশাপাশি ড্রয়িং রুমেরও শোভাবর্ধন করতো। ল্যান্ডফোন ব্যবহার করতো অভিজাত পরিবারগুলো। ঐতিহ্যের অংশ ছিলে ল্যান্ডফোন। যথাযথ সুযোগ-সুবিধার অভাবে সেই ল্যান্ডফোনের ব্যবহার এখন অনেক হারে কমে গেছে। ল্যান্ডফোনের ব্যবহার আগের অবস্থায় ফেরাতে সরকারের যেমন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত, তেমনি সবার উচিত নিজেদের বাসাবাড়িতে ল্যান্ডফোন ব্যবহার করা। তাহলেই হয়তো আবার ল্যান্ডফোনের যুগ ফিরে আসবে।

আরও পড়ুন: চুরি হওয়া মোবাইল যার কাছে পাওয়া যাবে তারও হতে পারে সাজা

ব্যবসায়ী হিরু বলেন, আগে টেলিফোন ছাড়া অন্যকিছু ছিল না। যে কারণে মানুষ টেলিফোন ব্যবহার করতো। কিন্তু এখন মোবাইল সিম কোম্পানির মতো সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারায় মানুষ এখন টেলিফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সেবার মান ভালো না হওয়ায় টেলিটক সিমও মুখ থুবরে পড়েছে। সেবার মান ভালো করতে সরকারের এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজর দেওয়া উচিত।

Raj-4

রাজবাড়ীতে রয়েছে ইন্টারনেট সেবার চাপ-ছবি জাগো নিউজ

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হেদায়েত আলী সোহরাব বলেন, আগে ল্যান্ডফোন ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র বাহক। কিন্তু মোবাইলের যুগে এসে সরকারের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এই প্রতিষ্ঠানটি আজ বিলীনের পথে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনলে এবং গ্রাহকদের মোবাইল ফোনের মতো করে সুযোগ-সুবিধা দিলে হয়তো নতুন করে আবারও অনেকে ল্যান্ডফোনের সংযোগ নেবে।

আরও পড়ুন: স্মার্টফোনের জালে বন্দি শৈশব

রাজবাড়ী বিটিসিএলের (টেলিকম) জুনিয়র সহকারী ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে টেলিকমসহ সব ধরনের সেবা পাচ্ছেন গ্রাহকরা। দিন দিন জেলায় টেলিফোন গ্রাহক সংখ্যা কমছে। তবে টেলিকমের কাজ কম থাকলেও সবসময় ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। পাশাপাশি সরকারি অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়িতে যে লাইনগুলো রয়েছে, সেগুলোর দিকে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখতে হচ্ছে। লাইনম্যানরা সবসময় ব্যস্ত থাকেন। বর্তমানে রাজবাড়ীতে অপটিক্যাল ফাইবার তার জয়েন্ট ও ত্রুটি নির্ণয়ের মেশিন নেই, যার কারণে অপটিক্যাল ক্যাবলে সমস্যা হলে বাইরে থেকে লোক এনে টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়। ফলে ওই সাপ্লাইসি ও ওটিডিআর মেশিন পেলে তারা নিজেরাই কাজ করতে পারবে। সে সক্ষমতা তাদের আছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি অফিসগুলোতে এলএলআই লিজ লাইন ইন্টারনেট সেবা তারা দেন। সমস্যা হলেও তাদের দেখতে হয়। তাছাড়া অফিসে বর্তমানে কোনো লোকবলের সংকট নেই। ডিজিটাল সেবার শুরুর পর আগের যন্ত্রাংশ আর ব্যবহার হচ্ছে না।

রুবেলুর রহমান/এসএইচএস/এমএস